শিক্ষা নেয়নি উলুবেড়িয়া,  ঘুমন্ত পুলিশ, প্রশাসন

শিক্ষা নেয়নি উলুবেড়িয়া, ঘুমন্ত পুলিশ, প্রশাসন

 

রাজীব মুখার্জী, উলুবেড়িয়া, হাওড়াঃ ৩০ শে অক্টোবর মঙ্গলবারই উলুবেড়িয়ার বাজারপাড়ায় ঘটেছিল দুর্ঘটনাটি। সেখানে নিজের বাড়িতে বাজি বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হয়ে এখনো চিকিৎসাধীন বাড়ির মালিক প্রবীর মেউর। বছর বাহান্নর সেই ব্যক্তিকে প্রথমে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছিল। পুলিশ তার বাড়িটিও সিল করে দিয়েছে আপাতত। কিন্তু এই ঘটনা থেকেও শিক্ষা নেয়নি এলাকার মানুষজন। ঘুম ভাঙ্গেনি এখনো পুলিশ, প্রশাসনের। সেই পুরানো চিত্রই ধরা পড়লো আবার উলুবেড়িতেই।

এখানে বাজারের মধ্যেই বস্তায় রাখা বাজির হরেক মশলা। দেদার বিকোচ্ছে কোনো রকম সতর্কতা বিধি নিষেধ অগ্রাহ্য করেই। পথ চলতি বাজারে আসা মানুষ ঘেঁটে দেখছে তাতে বয়স্করাও আছেন, আবার আছে কিশোর বয়সী ক্রেতারাও। দোকানের সাথেই রাখা গ্যাসের সিলিন্ডার। সেটাও খোলা বাজারেই বিক্রি হচ্ছে উলুবেড়িয়ায়।

উলুবেড়িয়ায় বাজার পাড়ায় রাস্তার পাশেই বসে খোলা বাজার। সেখানেই পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। বাজি বানানোর সমস্ত সরঞ্জাম পাওয়া যাচ্ছে এখানে, অ্যালুমিনিয়াম চুর, সোরা (পটাশিয়াম নাইট্রেট), গন্ধক (সালফার), লোহাচুর সব বিক্রি চলছে ওজন দরেই। তার পাশেই রয়েছে তুবড়ির খোল সহ অন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। ছোট-বড় সকলেই এসে হাত বুলিয়ে দেখে যাচ্ছে। দরদামও চলছে ক্রেতাদের সাথে বিক্রেতার। দামে পোষালে এখানে থেকে মশলা কিনেও নিয়ে যাচ্ছেন ক্রেতারা। এই মশলা দিয়েই অনেকের বাড়ির ছাদে কোথাও বাড়ির বারান্দায় বা উঠোনে বানানো হবে রং মশাল, তুবড়ি বা কালি পটকা, আমড়া বোম সহ অনেক বাজি।

[espro-slider id=13653]

অপরদিকে ঠিক একই চিত্র উলুবেড়িয়ার গরুহাটায় রাস্তার পাশের বাজারেও। একরকম বারুদের স্তূপ নিয়ে কেনাকাটা চলছে রোজই। আরতো বেশি দিন নেই কালি পুজোর। প্রবীর মেউরের বাড়িতে বিস্ফোরণের পরের দিন হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ সুপার গৌরব শর্মা বলেছিলেন, ‘‘ওই ব্যক্তি বাজি তৈরির মশলা পেয়েছিলেন কোথা থেকে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” আর বাস্তবের চিত্রটা পরিষ্কার করে দিচ্ছে যে পুলিশ, প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে খোলা বাজারেই চলছে এই ব্যবসা। উলুবেড়িয়া বাজার ঘুরে বহু দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে বাজির মশলা। যে খুশি তার প্রয়োজন মতো কিনে নিতে পারেন।

বাজারে আসা এলাকার লোকজনের অভিযোগ, ‘‘যে ভাবে রাস্তার মশলা বিকোচ্ছে তাতে যে কোনও সময় বিস্ফোরণ হতে পারে। প্রশাসন বা পুলিশের নজর নেই এই বিষয়ে। ’’ উলুবেড়িয়ার এক বাসিন্দা সমর বারুই বলেন, ‘‘বড় বিপদ না ঘটলে পুলিশের টনক নড়বে না। তত দিন এ ভাবেই চলবে, আর এভাবে বাজির মশলা যে বিক্রি হচ্ছে এটা পুলিশ, প্রশাসন জানে না এটাও বিশ্বাস যোগ্য নয়। ’’

উলুবেড়িয়ার উপ-পুরপ্রধান আব্বাসউদ্দিন খান অবশ্য বলেন, ‘‘আমরা পুরসভায় বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি বেআইনি ভাবে বাজি বা বাজির মশলা বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান চালাবো।’’ বুধবার অবশ্য উলুবেড়িয়া পুরসভার খেয়া ঘাটগুলিতে নজরদারি চালানো শুরু করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশের অনুমান দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা থেকে বাজি ঢুকছে হাওড়া জেলায়। তাই ফেরিঘাট গুলোর উপরে নজর রাখা শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর ইতিমধ্যে আমতা, জয়পুর এলাকা থেকে বেশ কিছু নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার করা হয়েছে।

You May Share This
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.