হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের উদ্যোগে হাওড়া শহরের পরিবর্তনের চিত্র

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রাজীব মুখার্জী, চিত্র মণি শঙ্কর বিশ্বাস, হাওড়াঃ  স্কুলের শেষ বেঞ্চে বসা ছেলেটি যখন তার মেধা ও নিজের অন্তরের পরিবর্তনের আন্তরিক চিত্র শ্রেণী শিক্ষকের কাছে তুলে ধরতে সক্ষম হয়, তখন শ্রেণী কক্ষের চিত্র তাই হঠাৎ বদলে যায় বাকি পড়ুয়াদের সামনেও। শিক্ষক আরো গৌরবান্বিত হয় তার শিক্ষা সেবা সার্থক এই অনুভূতি শ্রেণী শিক্ষকের উপলব্ধিতে আসে। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের এলাকাতেও ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে আগের পুরানো হাওড়া। আগেকার হাওড়ার নাম শুনে অনেকের কাছে উঠে আসতো অনেক বিরক্তি, সমস্যা অনেক আছে আজও; কিন্তু সেই সমস্যাকে মোকাবিলা করে বদলাচ্ছে হাওড়া সদর এলাকা। প্রশাসনিক বদল সেই পরিবর্তনের চিত্রকে আরো ত্বরান্বিত করেছে। আর তা মঙ্গলা হাটকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক দশমীর দিন থেকে চার দিনের ভাসান চলাকালীন গঙ্গার দূষণকে মোকাবিলা করে নির্বিঘ্নে সুসংগঠিত ভাবে প্রশাসনিক তালমেলের অসাধারণ চিত্র বা সাম্প্রতিক অতীতে যানজটহীন দুর্গাপুজো উপহার দেওয়ার উদাহরণ প্রমান করছে এবং জোর গলায় বলছে হাওড়া বদলাচ্ছে সে ফিরছে শেষ বেঞ্চে বসা ছেলে হয়ে শ্রেণী কক্ষের সামনের সারির পড়ুয়াদের টেক্কা দিচ্ছে তার নিজস্ব ভঙ্গিমাতে।

অতীতের সেই সঙ্কীর্ণ রাস্তার ধারে বেলিলিয়াস রোড, সালকিয়া স্কুল রোড, দেশপ্রাণ শাসমল রোড, জি. টি. রোডে প্লাস্টিক পেতে, সালকিয়া চৌরাস্তায়, রামরাজতলা, দালাল পুকুর, দাস নগরের চৌমাথায় কোনও বাড়ির এক চিলতে বারান্দায় কিংবা স্টেশনারি দোকানেও আগে চলত বিপদজনক ভাবে বাজি কেনাবেচা। বিপজ্জনক এই ব্যবসা বন্ধ করতে এবার উদ্যোগী হল হাওড়া পুলিশ ও প্রশাসন।

মূলত হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের নেতৃত্বে এই বছর থেকে হাওড়া কমিশনারেটের এলাকাতে চালু হচ্ছে বাজি বাজার। প্রশাসন সূত্রের খবর, গত বছরেও এই হাওড়া শহরে বাজি বাজার চালু করার একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে কার্যকর করা সম্ভবনা হয়নি। ২৬ শে অক্টোবর গত শুক্রবার হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট, জেলা প্রশাসন ও হাওড়া পুরসভার সম্মিলিত বৈঠকে বাজি বাজার নিয়ে আলোচনার পরে এই বছর থেকে বাজি বাজার চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


হাওড়ার জেলাশাসক চৈতালী চক্রবর্তী জানান, ‘‘এই প্রথম হাওড়া শহরে বাজি বাজার হচ্ছে। শহরের তিনটি প্রান্তে জায়গাও নির্দিষ্ট করা হয়েছে।’’ বালি এলাকার দেশবন্ধু ক্লাবের সামনে, উত্তর হাওড়ার ঘাসবাগান এলাকাতে ও মধ্য হাওড়ার ডুমুরজলা স্টেডিয়ামের মাঠেই বসবে হাওড়া শহরের বাজির বাজার। আগামী ২৯ শে অক্টোবর সোমবার থেকে শুরু হয়ে কালীপুজোর পরের দিন অর্থাৎ ৭ ই নভেম্বর বুধবার পর্যন্ত চলবে ওই তিনটি বাজার। কলকাতা পুলিশ এলাকা সহ বিভিন্ন জেলার বহু জায়গাতে বহু বছর ধরেই চলে আসছে বাজি বাজার। এই বছরে প্রথম হাওড়াতেও বসতে চলেছে বাজি বাজার।

হাওড়ার সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার তন্ময় রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘যত্রতত্র বাজি বিক্রির সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিপদের আশঙ্কাও বেড়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি বদলাতেই হাওড়াতেও চালু হচ্ছে এই বাজার। নির্দিষ্ট তিনটি জায়গাতেই ‘অন-স্পট’ ভিত্তিতে এক জানলা নীতিতে ব্যবসায়ীদের বাজি বিক্রির অনুমতি মিলবে’’।

বালি এলাকায় দেশবন্ধু ক্লাবে ২০০ টি স্টল নিয়ে তৈরি হবে ওখানে বাজি বাজার। গোলা বাড়ি থানার কাছের ঘাসবাগানের মাঠে বসবে ১৫০ টি স্টল এবং ডুমুরজলা স্টেডিয়ামের পেছনের মাঠে ২৫০ টি স্টল তৈরি করা হবে। মোট ১৪ টি থানা মিলিয়ে এই উদ্যোগ। প্রতিটি বাজি বাজারের পরিকাঠামো তৈরি করে দেবে হাওড়া পুরসভা থেকেই এবং তাতে স্টল থেকে শুরু করে সাফাই ও আলোর ব্যবস্থাও থাকবে। এই গোটাটাই হবে হাওড়া পৌরসভার তত্বাবধানে।

মেয়র রথীন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বিপদ এড়াতে পুলিশ ও প্রশাসনের এটা খুবই ভাল উদ্যোগ। মেয়র পারিষদ গৌতম চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পরিকাঠামোর পুরো বিষয়টি দেখভাল করতে।’’ হাওড়া পুলিশ কমিশনার তন্ময়বাবু আরও জানান, “সরকারি তালিকাভুক্ত বাজি বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তার দিকেও নজরদারি থাকবে পুলিশের পক্ষ থেকে। তবে পরিবেশ দফতরের আধিকারিকেরাও বাজি বাজার পরিদর্শন করবেন। শব্দ বাজি তল্লাশি অভিযান বজায় থাকবে প্রতি বছরের মতোই। “

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment