28 C
Kolkata
Thursday, July 18, 2024
spot_img

নদীর মুখ ঢেকেছে কচুরি পানায়, আনন্দ ফিকে গ্রামবাসীর

জ্যোতির্ময় চক্রবর্তী, বনগাঁঃ   দূর থেকে দেখলে সবুজ গালিচা ভরা মাঠ বলে ভুল হতে বাধ্য! বাস্তবে এটি কোদালিয়া নদী। কচুরি পানায় মুখ ঢেকেছে বহুদিন৷ বাগদা ব্লকে কনিয়ারা ১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এই নদীটি এখন নাব্যতা হারিয়ে বদ্ধ জলাশয়ে পরিনত হয়েছে৷

নদীর এই দুর্দশার কারনে এবারে লক্ষ্মী পুজোর আনন্দটাই মাটি হয়ে গিয়েছে স্থানীয় পুর্ব হুদা গ্রামের এবং সংলগ্ন এলাকার কয়েক হাজার মানুষের। দুর্গাপুজো নয় লক্ষ্মী পুজোই এখানকার মানুষের প্রধান উৎসব। উৎসবের মূল আকর্ষন হিসাবে থাকে কোদালিয়া নদীতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। প্রতিবছর এলাকার মানুষ অপেক্ষা করে থাকেন এই বাইচ প্রতিযোগিতা দেখার জন্য। উত্তর ২৪ পরগনা ও নদীয়া থেকে মাহিলা ও পুরুষদের গোটা ২০ বাইচ দল এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

এখানকার বেশিরভাগ মানুষই অধুনা বাংলাদেশের বাসিন্দা। দেশ ভাগের সময় ও তারও পরে ওপার বাংলা থেকে মানুষেরা এসে এখানে বসতি গড়ে তুলে ছিলেন৷ ওপার বাংলার অন্যতম বড় ক্রীড়া সংস্কৃতি ছিল এই নৌকা বাইচ। সেই ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে পূর্ব হুদা গ্রামের বাসিন্দারা প্রতিবছর নৌ-বাইচের আয়োজন করে থাকেন। দুর দুরান্ত থেকে মানুষ এই বাইচ দেখার আকর্ষনে ছুটে আসেন। কিন্তু লক্ষ্মী পুজোতে এবার গ্রামের মানুষের মুখ ভার, কারন কোদালিয়া কচুরি পানায় ভোরে থাকায় এবারে আর বাইচ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় তরুন সঙ্ঘের তরফে পুজো ও বাইচের আয়োজন করাহয়। সঙ্ঘের পক্ষ থেকে এবার পুজোর আগে নদীথেকে কচুরিপানা পরিষ্কার করবার আবেদন করা হয়েছিল পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের কাছে, অভিযোগ তার কোন পদক্ষেপ করেনি। কেন কচুরিপানা পরিষ্কার করা গেলনা? ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে নদী কচুরিপানা মুক্ত করতে দ্রুত পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

বাগদা ব্লকের অন্যতম প্রধান নদী কোদালিয়া। অতীতে নদী ছিল খরস্রোতা। নিয়মিত জোয়ার ভাটা খেলতো, বহু মানুষ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু এখন বছরের বেশির ভাগ সময় নদীর জল দেখতে পান না বাসিন্দারা। নদীথেকে কচুরিপানা তোলা ও সংস্কারের দাবীতে বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে সরব৷ কিন্তু প্রশাসনের তরফে আজও নদী সংস্কারের জন্য কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা হতাশ৷ বাইচ আয়োজন না হওয়ায় সেই হতাশা ক্ষোভে পরিনত হয়ছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা মানব বিশ্বাস বলেন, এবারে বাইচ প্রতিযোগিতা না হওয়ায় পুজোর আনন্দটাই মাটি হয়ে গিয়েছে৷ প্রতিবছর বাড়িতে আত্নীয় স্বজনরা আসতেন বাইচ দেখার জন্য। বাইচ হচ্ছে না জানতে পেরে তারাও এবার বাড়িতে আসেননি৷ এলাকার প্রবীন মানুষের স্মৃতিতে এখনও উজ্জ্বল ওপার বাংলার নৌ-বাইচ। অনেকেই ছোট বেলায় বাবা, ঠাকুরদাদাদের হাত ধরে ওদেশের নদীতে বাইচ দেখতে গিয়েছেন৷ এক বৃদ্ধের কথায় "প্রতিবছর কোদালিয়া নদীতে বাইচ দেখতে ছুটে যাই৷ হারানো শৈশবকে খুঁজে পাই কিছুক্ষনের জন্য। এবার মোনটা ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছে।"

Related Articles

Stay Connected

17,141FansLike
3,912FollowersFollow
21,000SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles