পথ দুর্ঘটনা মোকাবিলাতে, জাতীয় সড়কে আসছে বিশেষ ট্রাফিক গার্ড

Spread the love
  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6
    Shares

 

রাজীব মুখার্জী, বাগনান, হাওড়াঃ রাজ্য সরকার অবশেষে “সেভ ড্রাইভ সেফ লাইফ ” প্রচারকে কেন্দ্র করে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়াস নিল আরেক ধাপ এগিয়ে। পরিসংখ্যান বলছেন এই প্রচারের সুফল আসতে শুরু করেছিল ২০১৬ সালের পর থেকেই। রাজ্যে যেখানে ২০১৬ সালে ১১১০ টি পথ দুর্ঘটনা ঘটেছিলো, সেই সংখ্যা ২০১৭ সালে কমে দাঁড়িয়েছিল ৯২১ টিতে। ২০১৬ সালের সাথেই তুলনাতে আসলে ১৪% কম হয়েছে এবং হতাহতের সংখ্যা প্রায় ১৫ % আমরা কমাতে পেরেছি। এটা একটা ভালো দিক আমাদের কাছে।

রাজ্য পুলিশের এ. ডি. জি. (ট্রাফিক ) বিবেক সহায় বলছেন, ” আমরা মূলত ৫ টি কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়েছিলাম এবং সেই অনুসারে আমরা প্রয়োগ করেছিলাম। আমরা জাতীয় সড়কে বিশেষ নজর বসিয়েছিলাম গাড়ির অতিরিক্ত গতির উপরে। আর এই নজরদারি খুব কঠোর ছিল মোটর সাইকেল আরোহীদের উপরে। আমরা এক অভিনব পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। অতিরিক্ত গতির বাইক আরোহীদের রাস্তায় থামিয়ে আমরা তাদের চা ও ঠান্ডা জল দিয়েছি রাজ্যের বিভিন্ন চেক পোস্টে। আমরা বিশেষ নজর রেখেছিলাম চালকদের নিঃশ্বাস পরীক্ষা করা যাতে নেশাগ্রস্ত হয়ে যারা গাড়ি চালাচ্ছেন তাদেরকে ধরে সতর্ক করা যায় আর সচেতনতা আরো বাড়ানো যায়। এই কাজে আমাদের সব থেকে বেশি সাফল্য এসেছে হুগলী, নদীয়া, উত্তর ও দক্ষিণ 24 পরগনাতে।” জাতীয় সড়কগুলিতে দুর্ঘটনা রুখতে এবং যান নিয়ন্ত্রণ করতে ৩৭টি ‘ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক গার্ড’ তৈরির সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। সোমবার হাওড়ার বাগনান ট্রাফিক পুলিশের ভবন উদ্বোধনে এসে এ কথা জানান রাজ্যের এ.ডি.জি.-1 (ট্রাফিক) বিবেক সহায়। বিভিন্ন জাতীয় সড়কের যে সব জায়গা দুর্ঘটনাপ্রবণ, সেখানেই ওই ট্রাফিক গার্ড করা হবে।

এ.ডি.জি.-র কথা মতো ” ২০১৬ সালে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। সেই সিদ্ধান্তের উপরে দাঁড়িয়ে ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক গার্ড গড়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এই বার তা কার্যকর করা হবে। প্রতিটা ট্রাফিক গার্ডের অধীনে ব্রেক ডাউন ভ্যান, অ্যাম্বুল্যান্স সবই থাকবে। মূল লক্ষ্য হল, দুর্ঘটনা এবং হতাহতের সংখ্যা কমানো।”

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘন ঘন দুর্ঘটনার জেরে জাতীয় সড়কগুলি ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি হাওড়ার উনসানি ট্রাফিক সিগনালের সামনে লরির ধাক্কাতে কর্তব্যরত জগাছা থানার এস. আই. গুরুতর জখম হন। তার পরবর্তী কালেই ডোমজুড় থানার অধীনে নিবরাতে লরির ধাক্কায় পিষ্ট হয়ে মারা যান রাজ্য পুলিশের সশস্ত্র পুলিশের ব্যারাকপুর ব্যাটালিয়ানের একজন এস. আই.। আর তারপরেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। তাই গাড়ির ‘লেন’ ভাঙা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা, এই সব কারণেই দুর্ঘটনা আটকানোর প্রয়াসকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে রাজ্য প্রশাসন।

প্রসঙ্গত ২০০৯ সালেই কেন্দ্র সরকার জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনা কীভাবে কমানো যায়, তা খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গড়ে। সেই কমিটির রিপোর্টেই ‘ডেডিকেটেড হাইওয়ে পুলিশ’ গড়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। যা অনেকটা সিআইএসএফ-এর ধাঁচে, যাদের একমাত্র কাজ শিল্প প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা দেখা। এ নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে বিস্তর আলোচনা চলে। শেষ পর্যন্ত ঠিক হয় ‘ডেডিকেটেড হাইওয়ে পুলিশ’ নয়, রাজ্য সরকার ‘ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক গার্ড’ তৈরি করবে। জাতীয় সড়কে যান নিয়ন্ত্রণে দক্ষ এই পুলিশকর্মীদের দিয়েই ওই গার্ডগুলি চালানো হবে বলে এ.ডি.জি. জানান। হাওড়া জেলায় দু’টি ‘ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক গার্ড’ করা হবে। কিন্তু কোথায় সেগুলি করা হবে তা এখনও ঠিক হয়নি।

এ.ডি.জি. জানান, “হাওড়ায় মুম্বই রোডে কোন কোন এলাকা দুর্ঘটনাপ্রবণ, সেগুলি জেলা পুলিশ খতিয়ে দেখে রিপোর্ট পাঠাবে। সেই রিপোর্টের উপরে ভিত্তি করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” এই কাজে খুশি রাজ্যের মুখ্য মন্ত্রীও। তিনিও বলছেন যে এই প্রচারের সুফল রাজ্যবাসী পাচ্ছে এবং এই প্রচার আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে রাজ্যের মানুষের স্বার্থে।

পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের এই সদর্থক প্রয়াসকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন রাজ্যবাসী কিন্তু ২০০৯ সালে হওয়া সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে যে এতো গুলো বছর অতিবাহিত হয়ে গেলো, এইটা আরো আগে হলে হয়তো আরো কিছু দুর্ঘটনা ও মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো বলে মনে করছেন রাজ্যবাসী।

সম্পর্কিত সংবাদ