তিন দিনেই শেষ হল রাজকোট টেস্ট, বিশাল জয় ভারতের

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

ওয়েব ডেস্ক, বেঙ্গল টুডেঃ রাজকোটে মাত্র তিনদিনেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ইনিংস ও ২৭২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দিল ভারত। ৬ই অক্টোবর টেস্টের তৃতীয় দিনে ৬ উইকেটে ৯৪ স্কোর নিয়ে খেলতে নেমে মধ্য়াহ্নভোজের আগেই ১৮১ রানে শেষ হয়েছিল তাদের প্রথম ইনিংস। এরপর ভারত তাদের ফলোঅন করালে দ্বিতীয় ইনিংসেও একই রকম ব্য়াটিং বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর মাত্র ১৯৬ রানে গুটিয়ে যায় তাদের পরের ইনিংস। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন পৃথ্বী শ।

টেস্ট তিনদিনেই শেষ হতে যাচ্ছে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল এদিন চা বিরতির আগেই। সেই সময় দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ছিল ৮ উইকেটে ১৮৫। পিছিয়ে ছিল ২৮৫ রানে। অপরাজিত ছিলেন দেবেন্দ্র বিশু ও ডাওরিচ। চা বিরতির পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের বাকিটা গুটিয়ে দিতে ভারতের লাগল মাত্র ৭ ওভার। শেষ দুটি উইকেট তুলে নেন জাদেজা। গোটা দলের সম্মিলিত প্রয়াসেই ভারত এই বিশাল জয় পেল। কিন্তু এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ভারতের তুলনায় এতটাই দুর্বল, এতটাই একপেশে হল খেলা, যে এই ম্যাচ থেকে ভারতের পারফরম্যান্স যাচাই করা সম্ভব নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিনদিনের খেলায় কখনও কোনও পরিকল্পনার ছাপ পাওয়া যায়নি।

তবে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের জন্য এই ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রথমেই বলতে হবে টিনএজার পৃথ্বী শ-এর কথা। অভিষেক টেস্ট ম্য়াচেই দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ব্য়াটিং করে তিনি শতরান (১৩৪) পেয়েছেন। রবীন্দ্র জাদেজা পেয়েছেন তাঁর প্রথম টেস্ট শতরান (১০০*)। আর শেষ ইনিংসে তাঁর টেস্ট কেরিয়ারে প্রথম এক ইনিংসে ৫ উইকেট দখল করলেন কূলদীপ যাদব (১৪-২-৫৭-৫)। অধিনায়ক কোহলিও তাঁর ২৪তম শতরান (১৩৯) পেয়েছেন। তৃতীয়দিন মধ্যাহ্নভোজের আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের লেজ ছেঁটে দিয়েছিলেন ভারতীয় বোলাররা। তবে তাঁদের হতাশা বাড়িয়ে তুলেছিলেন রোস্টন চেজ (৫৩) ও কীমো পল (৪৭)। তাদের প্রতিরোধেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান প্রথম ইনিংস-এ ১৮১-তে পৌঁছায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ জানত তাদের ইনিংস বেশিক্ষণ টিকবে না। তাই তাদের লোয়ার অর্ডার পাল্টা আক্রমণের রাস্তায় গিয়েছিল। এই ইনিংসে অশ্বিন ৪ উইকেট নেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে ইতিবাচক ভঙ্গিতে শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু শুরুতেই ক্রেইগ ব্রেথওয়েট ১০ রানে ফিরিয়ে দেন অশ্বিন। সেখান থেকে মধ্যাহ্নভোজের পর ভালই টানছিলেন পাওয়েল ও শাই হোপ। বিশেষ করে বেশ আক্রমণাত্মক ব্য়াটিং করছিলেন পাওয়েল। কিন্তু প্রথম ইনিংসে ওভার প্রতি ৬-এর উপর রান দিয়ে মাত্র ১ উইকেট পাওয়া কূলদীপ উইকেটের খিদে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে কিন্তু ঠিক যখন পাওয়েল-হোপের জুটি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে শুরু করেছেন সেই সময়ই অশ্বিনের বদলে বল করতে এসে হোপ (১৭)-কে ফিরিয়ে দেন কূলদীপ। ক্রিজে আসেন হেতমিয়ের। মেরে খেলে পাওয়েলকে সফল হতে দেখে তিনিও ভারতীয় স্পিনারদের মারার রাস্তায় যান। কিন্তু পরিকল্পনামাফিক ব্যাট তিনি করতে পারেননি। বদলে কূলদীপের বলে পয়েন্টে লোকেশ রাহুলের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে ১টি ৬-সহ ১১ রান করে বিদায় নেন তিনি।

এতদূর অবধি দ্বিতীয় ইনিংসে কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলায় একটা পরিকল্পনার ছাপ দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু প্রয়োগ ও আত্মবিশ্বাসের অভাবে এরপরই ম্যাচ থেকে একেবারে হারিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩ বলের বেশি দাঁড়াতে পারেননি সুনীল অম্ব্রিশ। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে অর্ধশতরান করা রোস্টন চেজ এসেই চালাতে শুরু করেছিলেন। তাঁকে রীতিমতো পরিকল্পনা করে তুলে নেন কূলদীপ যাদব। তাঁর মারার প্রবণতা দেখে তাঁর শরীরের কাছাকাছি ফ্লাইটেড বল দেন তিনি। ড্রাইভ করতে গিয়েছিলেন চেজ। কিন্তু হাত তোলার মতো যথেষ্ট জায়গা ছিল না। তাই কভার অঞ্চলে ২৪ বলে ২০ রান করে অশ্বিনের হাতে ধরা পড়েন। এরমধ্যেই পাওয়েল কিন্তু তাঁর আক্রমণাত্মক খেলা চালিয়ে গিয়েছেন। ৬৫ বলে তিনি অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। কিন্তি অন্য প্রান্তে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় তাঁর রান তোলার গতিও ক্রমে মন্থর হয়ে আসে। প্রথম সেশনেই তাঁকে কূলদীপের বিরুদ্ধে নড়বড়ে লেগেছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁর বলেই ইনিংসের ৩৬তম ওভারে ৮৩ রানে আউট হন তিনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই ভারতীয় দলের থেকে ধারে ভারে অনেক পিছিয়ে আছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৭ সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ৪৯২ রানের লিড পেয়েছিল ভারত, যা কি না টেস্টের প্রথম ইনিংসে ভারতের সর্বোচ্চ লিডের রেকর্ড। তারপর ২০১১ সালে ইডেন টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৪৭৮ রানের লিড পেয়েছিল ভারত। রেকর্ডে ওটা দ্বিতীয়। রাজকোটে প্রথম ইনিংসে ৪৬৮ রানের লিড নেয় ভারত। অর্থাৎ প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ লিড রেকর্ডে এটা তৃতীয়। যাই হোক, মাত্র তিন দিন টেস্ট খেলেই এক ইনিংস ও ২৭২ রানে জিতল টিম ইন্ডিয়া। তবে অস্ট্রেলিয়া সফরের মহড়া হয়তো হল না। তবুও জয় তো জয়ই।

সম্পর্কিত সংবাদ