কলকাতা হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ দূর্গা পুজোর ১০ হাজার টাকার অনুদানে

Spread the love
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

রাজীব মুখার্জী, হাই কোর্ট, কলকাতাঃ একের পর এক ঘটনায় বিব্রত হতে হচ্ছে রাজ্য সরকারকে। সেই বিড়িম্বনাকে আরো বাড়িয়ে দিলো আজকে কলকাতা হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ। দূর্গা পুজোর মুখে হাইকোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বাংলার সরকার। গত মাসে রাজ্য সরকার দুর্গা পুজো উপলক্ষ্যে ক্লাব গুলিকে যে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল, তাতে স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট জনস্বার্থের মামলাতে শুনানির সময়। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত এই অন্তর্বতী স্থগিতাদেশ জারি থাকবে বলে নির্দেশ হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্ত এবং বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চের।

দুর্গা পুজোতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ক্লাব গুলিকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। প্রসঙ্গত, সংবিধানের ২৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী কোনো নির্বাচিত সরকার কোনো ধর্মীয় কাজে বা প্রতিষ্ঠান কে এভাবে টাকা দিতে পারে না। আজকে সেই মামলার শুনানিতে এদিন রাজ্য সরকারের এই ভূমিকায় উষ্মা প্রকাশ করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি।

একডালিয়া এভারগ্রীন সহ বেশ কয়েকটি পূজা কমিটিকে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার দশ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়ে দিয়েছে। এখানেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সাংবিধানিক প্রশ্ন তোলেন তাঁরা জানতে চান ১৯শে সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের হওয়ার পর ২৪শে সেপ্টেম্বর কিভাবে রাজ্য সরকার এই টাকা পূজা কমিটি গুলিকে দিতে শুরু করল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, “সেভ ড্রাইভ, সেভ লাইফ” প্রচার করে মানুষকে সচেতন করতেই পুজো কমিটি গুলোকে এই টাকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার। বিপক্ষের মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “দেশে কোথাও রাজ্য সরকার ধর্মীয় অনুষ্ঠানে টাকা দেয় না৷ এটা সংবিধান বিরোধী৷”

আজকের শুনানিতে রাজ্যের কাছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের প্রশ্ন ছিলঃ

কোন খাত থেকে এই প্রচারের টাকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার এবং টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার নির্দিষ্ট কোন গাইডলাইন তৈরি করেছে কি?

শুধু কি দুর্গা পূজোয় এই টাকা দেওয়া হবে? বাকি অন্য সম্প্রদায়ের মূল উৎসবেও এইভাবে টাকা দেবে রাজ্য সরকার? প্রশ্ন করেন প্রধান বিচারপতি দেবাশিষ কর গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ।

মানুষের টাকা পুজোর ক্লাবগুলোকে দিচ্ছে রাজ্য সরকার৷ এই টাকার অপব্যবহার হচ্ছে কিনা তার নজরদারিতে রাজ্য কোন পদক্ষেপ করেছে কি?

পুজো কমিটিগুলিকে কীভাবে নির্বাচন করা হয়েছে তাও এদিন জানতে চাওয়া হয়।

রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল এদিন দুপুর ২ টোর সময় ফের এই মামলার শুনানির আর্জি জালালেও সেই আবাদন খারিজ করে দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। ডিভিশন বেঞ্চের তরফে সরকারি আইনজীবীকে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে আদলতকে উত্তর জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০.৩০ টায় ফের এই জনস্বার্থ মামলার শুনানি হবে বলে হাইকোর্ট, এমনটাই সূত্রের খবর। প্রসঙ্গত হাওড়া পুরসভা, হাওড়া সিটি পুলিশের পক্ষ থেকেও একটি মিটিং করা হয়েছিল কিছু দিন আগে, তাতেও দূর্গা পূজার ক্লাব গুলিকে পৌরসভার ফী মকুব করার কথা ঘোষণা হয়েছিল। এই জনস্বার্থ মামলার গতি প্রকৃতির উপরে হাওড়া পৌরসভা সিদ্ধান্ত বদলাবে কিনা সেটা সময়ের অপেক্ষা।

সম্পর্কিত সংবাদ