এবারে বারাকপুরের উড়ালপুলে ফাটল ঘিরে ছড়ালো আতঙ্ক

এবারে বারাকপুরের উড়ালপুলে ফাটল ঘিরে ছড়ালো আতঙ্ক

 

অরিন্দম রায় চৌধুরী, বারাকপুরঃ তিন বছর আগে পোস্তার ব্রিজ, সাম্প্রতিক অতীতের মাঝেরহাট, গঙ্গাসাগর একের পর এক ব্রিজ বিপর্যয়। এখন আবার এ জে সি বোস রোড এবং বারাকপুরের উড়ালপুলের দৃশ্য বিড়ম্বনার জায়গা তৃনমূলের কাছে। বিরোধি দল থেকে এটাও সোনা যাচ্ছে রাজনীতির অলিন্দে যে আমরাও বিগত সাত বছরে সরকার কে এতো বিড়ম্বনাতে ফেলিনি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর  প্রশাসনও নড়েচড়ে বসেছে। যার উদাহরণ আমরা দেখেছি। কলকাতা শহর ও তৎসংলগ্ন আশেপাশের জেলা গুলোতেও আবাসন মন্ত্রী নিজে পরিদর্শন করেছেন। ব্রিজ গুলির হাল হাকিকত নিজের চোখে দেখেছেন। সেই মতো উল্টাডাঙ্গা, গৌরীবাড়ি, বঙ্কিমসেতু ও হালে বানানো ডানলপ সেতুর মেরামতের কাজ ইতি মধ্যে শুরু  করেছে প্রশাসন তথা পূর্ত দফতর। এছাড়াও পূর্ত দফতরের নজরে আছে শহরের ও জেলার বিভিন্ন সেতু। তারই মধ্যে আমাদের ক্যামেরাতে ধরা পড়লো উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর উড়ালপুলের নীচের অংশের ছবি যা এক বিশাল অংশ জুড়ে ফাটল।

স্বাভাবিক ভাবেই এই চিত্র সামনে আসার পর থেকেই আতঙ্কিত এলাকার সাধারণ মানুষ। এই উড়ালপুলটি ২০০৯ সালে বারাকপুর-বারাসাত রোডের সঙ্গে ঘোষপাড়া রোড কে সংযোগ করে এবং শিয়ালদা মেইন শাখার ১৫ নম্বর রেল গেটের উপরে এই বারাকপুর উড়ালপুল তৈরির কাজ শুরু হয়। ২০১৩ সালের ৮ই এপ্রিল উড়ালপুলটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী মুকুল রায়, স্থানীয় সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী, তৎকালীন পূর্তমন্ত্রী সুদর্শন ঘোষদস্তিদার এবং খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সহ অন্যান্যরা।

কিন্তু সেতুটি তৈরি হওয়ার বছর দুয়েকের মধ্যেই সমস্যার মুখে পরে। সেবারে রেল রাজ্য সরকারের পূর্ত দপ্তরকে দিয়ে টেন্ডার করিয়ে সংস্কারের কাজ করে, কিন্তু এইবার সেই রেলের অংশেই আবার ফাটল টা দেখা যাচ্ছে। রেল লাইনের উপর যে অংশটি রয়েছে সেতুর, তারই একটি গার্ডারের সংযোগ স্থলে একটি বিরাট অংশ জুড়ে গভীর ফাটল দেখা দিয়েছে। পর পর উড়ালপুল দুর্ঘটনার ফলশ্রুতি এই দৃশ্য রাতের ঘুম কেড়েছে নিত্যযাত্রী থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের। 

এই বিষয়ে বারাকপুর পৌরসভার পৌরপ্রধান উত্তম দাস জানান, “আমি এই বিষয়ে আমাদের মহকুমাশাসকে জানিয়েছিলাম, পূর্ত দফতরকে চিঠি দেওয়ার জন্য এবং তার সঙ্গে আজ সকালেও আমার কথা হয়েছে পূর্তদফতরের সেতুটির একটি পূর্নাঙ্গ পরিদর্শন করা উচিত। শুধু রেলের জায়গাই নয়, পুরো উড়ালপুলটিই পরিদর্শন করা প্রয়োজন এখন।”

তিনি আরও বলেন, “আমি খবর নিচ্ছি। যে ভাবে বড়বড় যানবাহন চলাচল করছে এই সেতুর উপর দিয়ে, সেটা খুবই বিপজ্জনক বলে মনে হচ্ছে। যেকোন সময় বড় ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এর জন্য যা করার, যত তাড়াতাড়ি করা যায়, তার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আশা করছি দ্রুত এই সেতু সংষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

You May Share This
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.