ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে আগুন, দমকল বিভাগের দক্ষতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে আগুন, দমকল বিভাগের দক্ষতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

 

রাজীব মুখার্জী, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজঃ অগ্নিকাণ্ডের জের কলকাতাবাসীর পিছু ছাড়ছে না যেন। বাগড়ি মার্কেট থেকে শুরু হয়েছিলো, আজ এসে পৌঁছেছে মেডিকেল কলেজে। ৩রা অক্টোবর, কলকাতার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে লাগে এক বিধ্বংসী আগুন। সকাল ৮ টার সময় এম. সি. এইচ. বিল্ডিংয়ের একতলায় একটি ফার্মাসি কাউন্টার ও তার স্টোরে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় পুরো বিল্ডিং। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় এই বিল্ডিংয়ের উপরেই রয়েছে মেডিসিন ও হেমাটোলজি বিভাগ। আগুনের যেরে সব রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের চোখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট হয় ওঠে। অত্যন্ত তৎপরতার সাথে ঘটনা স্থলেই চলে আসেন চিকিত্সক ও হাসপাতালের কর্মীরা।

প্রায় আড়াইশো জন রোগীকে ইতিমধ্যেই সরানো হয়েছে ওই বিল্ডিং থেকে। রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে আনার কাজে হাত লাগান স্থানীয় বাসিন্দারা ও এলাকার অটোচালকরাও। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ১০ টি ইঞ্জিন। আমরা বেঙ্গল টুডের থেকে কথা বলেছিলাম বেশ কিছু রোগী ও তাদের আত্মীয়ের সাথে। ক্যামেরাতে ধরা পড়ে সেই আতঙ্ক ও বিধ্বংসী আগুনের চিত্র। মিনু দাস, বাড়ি বনগাঁ তে। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছে শরীর। বার্ধক্যজনিত একাধিক সমস্যা, সাথে হাঁপানির রোগ তাই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে গত সপ্তাহে। অনেকটাই সুস্থ, তাই আজ তার ছুটি দেওয়া হতো হাসপাতাল থেকে। প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও ঘুম ভেঙে উঠে হাসপাতালের বিছানায় অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

কিন্তু হঠাত্ই কানে এলো একটা চিত্কার। “আগুন লেগেছে, আগুন লেগেছে” মুহূর্তের মধ্যে গ্রাস করল চাপা আতঙ্ক। মৃত্যুভয় বড়ো ভয়। দমকলকর্মীদের দক্ষতায় ও তত্পরতায় আগুনের ভয়াবহতা থেকে উদ্ধার পেয়েছেন প্রায় ৪০০ জন রোগী, কিন্তু এখনও তাঁদের চোখেমুখে আতঙ্ক কাটে নি। যুদ্ধকালীন তত্পরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ। আগুন যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন দমকলকর্মীরা। ঘণ্টা দুয়েকের চেষ্টায় ভয়াবহ আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই বহু মুমূর্ষু রোগীকে বিল্ডিং থেকে নীচে নামিয়ে খোলা আকাশের নীচে চাদর ও প্লাস্টিক পেতে মাটিতে শুইয়ে রাখা হয়। প্রসঙ্গত, এই এমসিএইচ বিল্ডিংয়ে কার্ডিওলজি, হেমাটোলজি, গ্যাস্ট্রোএনট্রোলজি, এন্ডোক্রিনোলজি, মেডিসিন, হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট প্রভৃতি মিলিয়ে প্রায় ৪০০জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এই বিল্ডিংয়েরই নীচের ফার্মাসি ডিপার্টমেন্টে হাসপাতালের সব রোগীদের সারা মাসের ওষুধ মজুত থাকে।

যার মধ্যে ছিল বহু জীবনদায়ী ওষুধও। কিন্তু আগুনে এখন সব ওষুধ-ই নষ্ট হয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করছে হাসপাতাল। আগুনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছেন কলকাতার মহানাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায় ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুরজিৎ পুরোকায়স্ত। মেয়র জানান, “এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। ভয়ের বাঁ আতঙ্কের কোনো কারন নেই।” তিনি নিজে ভিতরে ঢুকে পুরো বিষয়টা খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

 

দমকল সূত্রে খবর, আগুন কি থেকে লেগেছে এখনো স্পষ্ট নয়। ভেতরে না ধোঁকা অব্দি জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না জানালেন ঘটনা স্থলে উপস্থিত দমকল বিভাগের উচ্চ পদস্থ এক আধিকারিক। রোগীরা জানাচ্ছেন, তাঁদের সব মেডিক্যাল রিপোর্ট রয়ে গিয়েছে বিল্ডিং-এর ভিতরে।

You May Share This
  • 32
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    32
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.