নাবালক প্রেমিককে বিষ খাইয়ে খুন, ৮ বছর পর প্রেমিকা ও তার দাদাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সাজা দিল আদালত

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জয় চক্রবর্তী, বনগাঁঃ প্রেমিকা ও তার দাদা, মদের সঙ্গে বিষ খাইয়ে প্রেমিককে খুনের অপরাধে বিচারক তাদেরকে যাবজ্জীবন সাজা দিলেন। শনিবার এই মামলার রায় ঘোষণা করলেন বনগাঁর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক অসীম কুমার দেবনাথ। সূত্রে খবর অনুযায়ী, গাইঘাটা থানার দেবীপুর গ্রামের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র পলাশ চক্রবর্তীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ওই গ্রামেরই বাসিন্দা বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্রীর। অভিযোগ, ২০১০ সালের ৫ জুলাই পলাশকে ফোন করে তার কলেজ দেখানোর নাম করে ঠাকুরনগরের জামদানি এলাকায় রেললাইনের ধারে ডেকে নিয়ে যায় প্রেমিকা, সেখানে উপস্থিত ছিল তার দাদা গৌরব এবং অন্যান্যরা, অভিযোগ পলাশকে মারধর করে তার মুখে বিয়ারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে জোর করে মুখের ভেতরে ঢেলে দেয় গৌরব।

কোনরকমে সেখান থেকে পালিয়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে সমস্ত ঘটনার কথা জানায় পলাশ, আশঙ্কা জনক অবস্থায় পলাশকে তখন রিপন বিশ্বাস নামে স্থানীয় এক যুবক সাইকেলে করে গোবরভাঙা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ কিন্তু সেখানে ঠিকমতো চিকিৎসা না হওয়ায় তাকে হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় পলাশের পরিবারের পক্ষ থেকে তপতী মন্ডল এবং গৌরব মন্ডলের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়৷ পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। এই মামলায় একজন প্রত্যক্ষদর্শীর গোপন জবানবন্দি ও ১৬ জন সাক্ষী নিয়ে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে মামলা চলে৷ শুক্রবার বিচারক অসীম কুমার দেবনাথ দুই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে শনিবার অভিযুক্তদের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় ঘোষণা করেন।

এই রায়তে খুশি মৃত পলাশের পরিবার৷ কাকা কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, পলাশের সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে তপতী তার কাছ থেকে প্রচুর টাকা এবং অন্যান্য জিনিস হাতিয়ে নিয়েছিল। পরবর্তীতে তার স্বার্থ ফুরিয়ে যাওয়ায় তপতী পলাশের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদ করে এবং হত্যা করে৷

সম্পর্কিত সংবাদ