রাজনৈতিক বিরোধিতার প্রশাসনিক তৎপরতার নির্দেশ

Spread the love
  • 11
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    11
    Shares

রাজীব মুখার্জী, নবান্ন, হাওড়াঃ বিগত ১০ বছরের মধ্যে এভাবে রাজ্য সরকার বনধের বিরোধিতায় নেমেছেন এ ঘটনাকে আমরা বিরল আমরা বলতেই পারি এই বাংলায়। ২৪শে সেপ্টেম্বর, সোমবার রাজ্য সরকারের অর্থদপ্তরের অডিট বিভাগের যে বিজ্ঞপ্তি বেরিয়েছে, তা থেকে একটি বিষয় জলের মত পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। মুখ্য মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার সরকার যেকোনও মূল্যে বিজেপির ডাকা বনধ আটকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তাই কর্মীদের সতর্ক করতে গতকাল নবান্নে অর্থসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী তার সাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো। এই বিজ্ঞপ্তি পরে বোঝা যাচ্ছে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ভাবে এই বনধের বিরোধিতা করছেন মুখ্যমন্ত্রী এবং এই বনধের বিরোধিতায় তার প্রশাসন ও দল করা মনো ভাবের অবস্থান নিচ্ছে। একটি প্রেস কনফারেন্স করে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় পরিষ্কার জানিয়েছেন, “২৬ তারিখের বন্ধ হবে না। তৃণমূল কংগ্রেস রাস্তায় নেমে এই রাজ্যকে সচল রাখবে। কোনো রকম হিংসার প্রচেষ্টা বরদাস্ত করবে না প্রশাসন। কোথাও জোর জবরদস্তি হলে প্রশাসন কড়া অবস্থান নেবে।” ওই বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার ভাবে জানানো হয়েছে, শুধু বনধের দিন মানে বুধবারই নয়, মঙ্গলবার এবং বনধের পরের দিন বৃস্পতিবারও বাধ্যতামূলক ভাবে কর্মীদের অফিসে আসা চাই৷ কোনও যুক্তি অজুহাত গ্রাহ্য হবে না। কাঁটা যাবে বেতন ও কর্ম জীবনের একদিন। এই নিয়ে কর্মীসংগঠন গুলি ইতি মধ্যেই উষ্মা প্রকাশ করেছে৷

বিজেপরি সরকারি কর্মী সংগঠন – সরকারি কর্মচারি পরিষদের আহ্বায়ক দেবাশিস শীল জানান, “২০১২ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি বামফ্রন্ট বন্ধ ডাকার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কর্মীদের উদ্দেশ্যে এই রকম বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। এছাড়া আর উদাহরণ মনে পড়ছে না। ২০১২ সালের পর বন্ধ আটকাতে এত মরিয়া হননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী এখন ইটালি সফরে আছেন। সেখান থেকেই বন্ধ আটকাতে তাঁর সরকারের “পারফরমেন্স” দেখবেন তিনি। প্রয়োজনীয় নির্দেশ এসেছে দল ও প্রশাসনের সর্ব স্তরে।

১. প্রত্যেক রাজ্য সরকারি কর্মীকে (এবং যাঁরা রাজ্য সরকারের Grant-in-Aid ভুক্ত কর্মী) আগামী ২৬শে সেপ্টেম্বর বিজেপির ডাকা “পূর্ণ দিবস” বাংলা বন্ধে অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে এবং এটি বাধ্যতামূলক।

২. অনুপস্থিতির জন্য কোনও “ক্যাজুয়াল লিভ” বা সি এল পাওয়া যাবে না৷ ওই দিন প্রথম বা দ্বিতীয়ার্ধেও কোনও ছুটি পাওয়া যাবে না। ওই দিন অন্য কোনও রকম ছুটি পাওয়া যাবে না।

৩. যেসব কর্মীরা সেপ্টেম্বরের ২৪ তারিখ (সোমবার) ছুটিতে ছিলেন, তাঁদেরও ২৫ তারিখ (মঙ্গলবার) অফিসে আসতে হবে।

৪. শুঘু মাত্র বন্ধের দিনই নয়, আগের দিন, মানে (২৫শে সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার) এবং (২৭শে সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার)ও কর্মীরা কোনও ছুটি নিতে পারবেন না।

৫. রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার লেখা রয়েছে, কর্মীরা না এলে কর্মজীবন থেকে একদিন বাদ পড়বে, সাথে সেই দিনের বেতন কাটা যাবে। তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছেঃ
এঃ কর্মীরা যদি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যায়।

বিঃ পারিবারে কোনও দুঃখজনক ঘটনা ঘটলে।

সিঃ ২৬শে সেপ্টেম্বর অর্থাৎ বুধবার আচমকা কোনও কর্মী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কর্মীরা ছাড় পেতে পারেন কিন্তু সেক্ষেত্রে উপযুক্ত তথ্য প্রমান দাখিল করতে হবে। সেটা দফতরের বিবেচনাধীন হবে সেই তথ্য প্রমান যাচাই করে দেখা।

ডিঃ যারা মাতৃত্ব কালীন ছুটিতে আছেন, যাদের আগে থেকেই ২৬ তারিখে ছুটি মঞ্জুর কড়া আছে, তাদের কে বাদ দিয়ে আর কাউকে রেয়াত না দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দফতর সূত্রে খবর।

৬. কর্মীরা যদি বলেন, যান চলাচলের সমস্যার জন্য অফিসে আসতে পারেননি, তবে সেই যুক্তি গ্রাহ্য করা হবে না।

৭. কোনও কর্মী না এলে, তাঁর উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ওই কর্মীকে “শো-কজ” করবেন। উত্তরে সন্তুষ্ট না হলে কর্তৃপক্ষ শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণ করতে পারে।

স্বভাবতই এই নির্দেশ নিয়ে বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। বামপন্থী কর্মচারী সংগঠন থেকে এই নির্দেশের বিরোধিতা কড়া হয়েছে। দাবি করা হয়েছে সরকার বন্ধ নিয়ে স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কর্মীদের রাজনীতির স্বাধীনতা হরণ করার চেষ্টা হচ্ছে। প্রসঙ্গত দুই ছাত্রের মৃত্যু ও তার পরিপ্রেক্ষিতে এই বন্ধ। এখন এই টা দেখার মতো বিষয় বিগত দিনের বন্ধের রাজনীতি যেভাবে প্রত্যাখ্যান করে এই রাজ্যের মানুষ কর্ম মুখর হয়েছিলেন, সেই চিত্রই আগামীকাল দেখা যায় কিনা। সাধারণ মানুষ রুটি রুজির লড়াইয়ে রাজনীতি শেষ কথা বলবে এটা এখন এই রাজ্যে লাখ টাকার প্রশ্ন। এই প্রশ্নের জবাব পাওয়া যাবে আগামী ২৬শে সেপ্টেম্বর। ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই তাকিয়ে আছেন আগামী কালের দিকে। বন্ধ বা স্বাভাবিক জনযাত্রা এই রাজ্যের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে চলেছে এটা নিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা একমত।

সম্পর্কিত সংবাদ