কলকাতায় আতঙ্কের রোজনামচায় নব আতঙ্কের সংযজন

কলকাতায় আতঙ্কের রোজনামচায় নব আতঙ্কের সংযজন

রাজীব মুখার্জী, টালিগঞ্জঃ মাঝেরহাট ব্রিজের বিপর্যয়ের পর থেকে ব্রিজ বিভ্রাট কোনো ভাবেই আর রাজ্য সরকারের পিছু ছাড়ছে না। সে অন্য ব্রিজের হালহকিকতের ভয়াবহ চিত্র হোক বা রাজ্যের অন্য ব্রিজ বিভ্রাটের খবর হোক। সেই ভয়ের ক্ষত এখনও দগদগে রাজ্য বাসীর বুকে। মাঝে ঘটলো বাগরি মার্কেটের ভয়াবহ আগুনের ঘটনা। যার জের এখনো শেষ হয় নি। মালিক পক্ষ বেপাত্তা তার প্রেক্ষিতে রাজ্যের জারি করা লুক আউট নোটিশ, এর মাঝেই হঠাৎ করে রাজ্য সরকারের রক্ত চাপ বাড়িয়ে দেওয়ার মতো খবর এসে পৌছয় আজ সকালেই। খবরটি হল, টালিগঞ্জ করুণাময়ী ব্রিজ হালকা নিচের দিকে বসে গিয়েছে। সৌভাগ্যের বিষয় ভেঙে পরেনি। তাও বুকে বাসা করা ত্রাস এখনও পিছু ছাড়েনি শহরবাসীর। তার মাঝেই এদিনের ঘটনায় ব্যাপক হারে আতঙ্ক ছড়িয়েছে ওই এলাকায়।

রোজের মতো প্রতিদিন এই ব্রিজ ব্যবহার করেন হাজার হাজার মানুষ৷ ব্রিজের ওপর গাড়ির লাইন স্বভাবতই এক পরিচিত দৃশ্য। তাই এই ব্রিজের একটা অংশ ধ্বসে বসে যাওয়ায় স্বভাবতই ভয় পেয়ে গিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের তরফ থেকে জানান হয়েছে এক্সপ্যানশনে জয়েন্টে ফাটল দেখা দেওয়ায় এমনটা ঘটেছে। ফাটলের খবর পাওয়ার পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা। আপাতত ফাটলের জায়গাটিকে জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। ফাটলের ওপর দিয়ে একটি লোহার বড় পাত বসিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ তার উপর দিয়েই যাচ্ছে গাড়ি।

এক নিত্যযাত্রী সৌমেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী আমাদের জানালেন “প্রতিদিন এই পথেই যেতে হয়৷ খুব ভয় করছে আজকে খবর পাওয়ার পর থেকে, যখন দেখলাম ব্রিজের উপরে এরম ফাঁকা হয়ে আছে। কিছুদিন আগেই মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে পড়ল আবার এই ব্রিজের অংশ বসে যাওয়া। সত্যি খুব ভয় করছে।” এদিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই বেশ কিছু সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেন এই ব্রিজের ওপর চলাচলের যে ফুটপাথ তার অবস্থা খুবই খারাপ। সেখানে গর্ত তৈরি হয়ে রয়েছে। কংক্রিট খসে ভেতরের স্ট্রাকচার বেরিয়ে এসেছে। এই ব্রিজের মেরামতি যে খুব শীঘ্রই করা প্রয়োজন তা জানান এলাকার বাসিন্দারা। সেটা এখনও করা হয়নি৷ তাই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। কে. এম. ডি এ. সূত্রে জানানো হয়, ম্যাস্টিক জয়েন্টের ক্র্যাক থেকেই এই বিপত্তি। সন্ধ্যায় ঘটনার জায়গা দেখতে আসেন ববি হাকিম। তিনি বলেন খুব শিগগিরই এটি সরিয়ে দেওয়া হবে। ঘটনার পরই গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা শুরু হয় ট্রাফিক পুলিশের তরফ থেকে। তবে যে সময় এই ব্রিজে ফাটল দেখা যায় তা ছিল পুরোপুরি অফিস টাইম। মানুষের মুখে এখন শুধু একটাই কথা, “যে কোনও সময় ভয়াবহ অবস্থা হতে পারে এই ব্রিজেরও। যদি না তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়া হয়”। সেই পদক্ষেপের জন্য নিত্য যাত্রী থেকে এলাকার বাসিন্দারা অপেক্ষা করছেন মনের ভেতরে মাঝেরহাট ও পোস্টার ব্রিজের দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে।

You May Share This
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.