“গিলি গিলি গে”, সৌজন্যে হাওড়া সিটি পুলিশ

Spread the love
  • 12
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    12
    Shares

রাজীব মুখার্জী, হাওড়া ময়দান, হাওড়াঃ বাংলায় পি. সি. সরকারের বিখ্যাত ম্যাজিক স্পেল “গিলি গিলি গে” বা হ্যারি পটার খ্যাত ‘Let the object of objection, become but a dream, as I cause the seen to become unseen.’ এই শব্দ গুলোর সাথে আমরা পরিচিত। না, আজ আমরা কোনো ম্যাজিকের প্রতিবেদন আনি নি। তবু যা ঘটলো তা ম্যাজিকের মতোই। এবার আসছি সেই প্রতিবেদনে। কিছু দিন আগেই আমরা দেখিয়েছিলাম সেই চিত্র যেখানে হাওড়া ময়দান সংলগ্ন বঙ্কিম সেতুর উপরে পার্কিং করে রাখা হয় বাস ও মিনি বাস। এই বাংলায় ব্রিজ বিপর্যয়ের অন্তরতদন্ত মূলক প্রতিবেদনে। আমাদের ক্যামেরাতে ধরা পড়েছিল কিভাবে বঙ্কিম সেতুর উপরেই গজিয়ে উঠেছে এক বেআইনি বাসের পার্কিং।

স্বভাবতই হাওড়া স্টেশন থেকে হাওড়ার বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়ার চলমান গাড়ির ভিড় থাকে বঙ্কিম সেতুর উপরেই। ঠিক দুপুর ৩ টা ৩০ মিনিট, প্রশাসনের ব্যাস্ততা তুঙ্গে এবং তার ফলশ্রুতি ম্যাজিকের মতো উধাও বড়ো বাস ও মিনি বাসের পার্কিং বঙ্কিম সেতুর উপর থেকে। কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সব উধাও। বৃহস্পতিবার পুরো ও নগরোন্নয়ন দফতরের ভার প্রাপ্ত মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম আসছেন শুনেই গোটা এলাকা ফাঁকা। সাথে ছিলেন হাওড়ার মেয়র রথীন চক্রবর্তী। মন্ত্রী জানান “দেখে মনে হচ্ছে সেতুর অবস্থা মোটের উপরে ঠিক আছে তবু একটি বেসরকারি সংস্থা কে দিয়ে ব্রিজ পরীক্ষা করা হবে। কংক্রিটের ভিতরে কী অবস্থা রয়েছে তা জানতে ক্যামেরা ঢুকিয়ে পরীক্ষা করা হবে ব্রিজের স্বাস্থ্য। “

স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনায় এলাকার লোকেদের মনে প্রশ্ন উঠেছে এতদিন মেয়র বলতেন “পার্কিংয়ের অন্য জায়গা নেই। বাধ্য হয়েই বঙ্কিম সেতুর উপরেই গাড়ি পার্ক করতে হয়।” তাহলে সেই গাড়ি গুলো গেলো কোথায় আজকে? বাস চালকদের সাথে কথা বলে জানা গেলো, পুলিশ থেকে জানানো হয়েছিল যে আজকে মন্ত্রী আসছেন। ব্রিজ পরিদর্শনে তাই ব্রিজের উপরে বাস রাখা যাবে না। তাই হাওড়া যাওয়ার পথে রেলের ফাঁকা জায়গা, হাওড়া আর কলকাতা স্টেশনে তারা বাস গুলো নিয়ে চলে যান। যদিও মন্ত্রী চলে যাওয়ার পরেই আবার বাসগুলো ফিরতে শুরু করে ও সেই পুরানো চিত্রে ফিরে আসে ময়দান সংলগ্ন বঙ্কিম সেতুতে। এলাকার বাসিন্দা সুকান্ত দেব বলেন “মন্ত্রী মশাই কে প্রকৃত চিত্র তা দেখানো উচিৎ ছিল, হয়তো তিনি এর সমাধান দিতে পারতেন। এভাবে একটা জ্বলন্ত সমস্যা কে ধামা চাপা দেওয়া হলো, কাজ তা ঠিক হলো না ।” হাওড়ার মেয়র রথীন চক্রবর্তী কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন “কেনো গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হলো সেটা পুলিশ বলতে পারবে। এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না।” তাকে প্রশ্ন করা হয় যে আপনি কিছু জানিয়েছেন ওনাকে এই বিষয়ে? ব্যাস্ততার অজুহাতে তিনি প্রশ্ন টি এড়িয়ে যান। সেখানে উপস্থিত হাওড়া সিটি পুলিশের ডি. সি. ( ট্রাফিক ) জাফর আজমল কিদোয়াই বলেন “কিছুদিন ধরেই ব্রিজের ওপরে বাস গুলোকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না তাই আজকেও তাদের দাঁড়াতে দেওয়া হয় নি।” প্রসঙ্গত বাস্তবের চিত্র অন্য কথা বলছে। কেনো পুলিশ প্রশাসনের থেকে এভাবে সমস্যা থেকে চোখ ফিরিয়ে রাখা হচ্ছে? এর উত্তর কারোর থেকেই পাওয়া যাচ্ছে না।

সম্পর্কিত সংবাদ