পরিকাঠামোর অভাব তবুও ৩ ঘন্টার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় সফল অস্ত্রোপচার হাবড়ায়

Spread the love
  • 54
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    54
    Shares

 

শান্তনু বিশ্বাস, হাবড়াঃ হাবড়া হাসপাতালে এক রোগিণীর জরায়ুর পাশে থাকা ফেলোপিয়ান টিউব ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায়, শিফালি রায় (৩৫) কে স্থানন্তরিত করা হয় বারাসাত হাসপাতালে। কিন্তু রোগিণীর অবস্থা এতোটাই সংকটজনক থাকে যে, তড়িঘড়ি হাবড়া হাসপাতালেই ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকেরা।

হাবড়া হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার অশোকনগর থানার অন্তরগর্ত রাধা কেমিক্যাল এলাকার বাসিন্দা শিফালি দেবী জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের কাছে পেটে ব‍্যাথা নিয়ে আসলে প্রথমে তাকে ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু হঠাৎ রাত থেকে আবার পেটে ব্যাথা শুরু হলে ভোর রাতেই আবার হাসপাতালে নিয়ে আসলে ভর্তি করে নেওয়া হয় তাকে। ডাক্তার আলট্রাসনোগ্রাফি করতে বললে, সেটিও তারা করে। কিন্তু সেই রিপোর্ট দেখে চোক্ষু চরক গাছ হয়ে যায় ডাক্তারদের। দেখা যায় জরায়ুর পাশে ফেলোপিয়ান টিউব থেকে অনবরত রক্ত ক্ষরন হচ্ছিল। খবর সুপারের কানে যেতেই, সাথে সাথে বারাসাত হাসপাতালে সুপার সুব্রত মন্ডলের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, দ্রুত অস্ত্রোপচার করে টিউব বেঁধে দিতে হবে, না হলে মৃত্যু হতে পারে।

হাবড়া হাসপাতালের সুপার শঙ্কর লাল ঘোষ জানান, “মহিলার শরীরের অবস্থা এতটাই সঙ্কটজনক ছিল, যে রাস্তায় মারা যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই অস্ত্রপচারের পরিকাঠামোর অভাব থাকা সত্ত্বেও, ঝুঁকি নিয়ে এখানে অস্ত্রোপচার করা হয়। এখন মহিলা সুস্থ ও স্থিতিশীল” হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, একটি স্বাভাবিক শরীরে হিমোগ্লোবিন থাকার কথা ১৩-১৪, তার নিচে নামলে অজ্ঞান করা হয় না রুগীকে। সে ক্ষেত্রে রুগীর হিমোগ্লোবিন ছিল ৪। এমত জটিল অবস্থায় হাসপাতালে সুপার শঙ্কর লাল ঘোষের নেতৃত্বে, চিকিৎসক অরূপ বসু, সঞ্জীব সাহা, অমিত বাইন এর ৩ ঘন্টার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় অস্ত্রোপচার সফল ভাবে শেষ হয়। সাথে সহযোগিতা করেন বারাসত হাসপাতালে সুপার সুব্রত মন্ডল। তিনি সাথে সাথে দুই বোতল রক্ত পাঠান এবং কোন রকম অসুবিধা হলে জানাতে বলেন। শেফালী দেবীর স্বামী গৌবিন্দ রায় জানান,”সুপার ও চিকিৎসক দের প্রচেষ্টা অসম্ভব কে সম্ভব করা গেল, এখন সুস্থ স্ত্রী”

সম্পর্কিত সংবাদ

Leave a Comment