দিশেহারা অবরোধের বিক্ষিপ্ত প্রভাব কিছু স্থানে

Spread the love
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

 

অরিন্দম রায় চৌধুরী ও রাজীব মুখার্জি, বার‍্যাকপুরঃ ১০ সেপ্টেম্বরে জাতীয় কংগ্রেসের ডাকা পেট্রল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে ডাকা ভারত বন্ধকে গত ৭ই সেপ্টেম্বর রাজ্যের বামপন্থী ও বাম সহযোগী দলগুলি সমর্থন জানায় ও পাশাপাশি পশ্চিমবাংলার জনগণের কাছেও দেশব্যাপী হরতালে শামিল হবার আহ্বান জানানো হয়। গত ৭ই সেপ্টেম্বর এক প্রেস বিবৃতিতে বামেদের পক্ষে এই আবেদন জানান বিমান বসুও দলের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। ওই বিবৃতিতে বিমান বসু বলেন – “চার বছরের কিছু সময় আগে কেন্দ্রে মোদী সরকার গড়ে ওঠার সময় আচ্ছে দিনের কথা বলে যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার কোনোটাই কার্যকরী হয়নি, এমনকি করা হয়নি কৃষকের ফসলের লাভজনক দামের ব্যবস্থা, কিংবা তাদের ঋণ মকুবের ব্যবস্থা। উল্টে কেন্দ্রের মোদী সরকার বড় বড় কর্পোরেট গোষ্ঠীর স্বার্থে তাদের ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ঋণের টাকা মকুব করে দিয়েছে। রাফাল যুদ্ধ বিমান নিয়ে চরম দুর্নীতির প্রশ্ন উঠেছে। ওই বিবৃতিতে তিনি আরও জানান – “যেভাবে প্রতিদিন পেট্রোল ডিজেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, টাকার অবমূল্যায়ন ঘটছে তাতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। বিবৃতিতে কেন্দ্রের মোদী সরকারকে জনবিরোধী ও স্বৈরাচারী সরকারের আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট ও হরতাল সফল করার আবেদনও জানিয়েছিলেন বিমান বসু।

প্রসঙ্গত বাম আমলে প্রতি বছর দূর্গা পূজার আগে যে ধর্মঘট পালনের প্রথা চালু হয়েছে তার থেকে এবছরও বাদ গেলো না। একই সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে যে বিবৃতি পাওয়া যায় তাতে বোঝা যাচ্ছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বি. জে. পি. বিরোধী দল গুলোকে যেভাবে একজায়গায় আনতে চাইছেন লোকসভা নির্বাচনের আগে। সেই ইচ্ছার প্রতিফলন শুনতে পাওয়া গেলো আজ তৃণমূল কংগ্রেসের শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্যোপাধ্যায়ের করা সাংবাদিক সম্মেলনে। তিনি স্পষ্ট ভাবে বলেন “বন্ধ সমর্থন করি না আমরা, কিন্তু ওই দিনে বিভিন্ন ইসু নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ১০ই সেপ্টেম্বর রাস্তায় নামবে”।

তাই খুব স্পষ্ট একদিকে যেমন কংগ্রেস কে পাশে রাখার কথা ইঙ্গিতে বোঝালেন পাশাপাশি একসময়ের চির শত্রু সি. পি. আই. (এম ) কে চিরাচরিত ভাবে বনধের তীব্র বিরোধিতা না করে লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে সোহার্দের বার্তা দিলেন।

ভারত বন্ধ নিয়ে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনার রাজেশ কুমার সিং প্রথম থেকেই কড়া মনোভাব পোষণ করেছিলেন যাতে কোন ভাবেই জোড় করে কেউ যাতে রাস্তাঘাট অবরোধ না করতে পারে। সেই মত সকাল ৬টা থেকেই রাস্তার প্রতিটি মোড়ে দেখা যায় থানাওয়ারি প্রসশনিক তৎপরতা। এরই মাঝে সকাল ৯টার সময় নোয়াপাড়া শহর কংগ্রেসের তরফ থেকে ভারত বন্ধের সমর্থনে ইছাপুর স্টেশনে রেল অবরোধ করা হলে সামান্য কিছু সময় ধরে এই রেল অবরোধ চলে। পরে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ ও রেল পুলিশ এসে অবরোধকারীদের লাইন থেকে সরিয়ে দেয়।

অপরদিকে, বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ভারত বন্ধের সমর্থনে ব্যারাকপুর চিড়িয়া মোড়ে জাতীয় কংগ্রেসের পথ অবরোধ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। অল্প কিছুক্ষণ অবরোধ চলার পরই, প্রশাসনিক তৎপরতায় সঙ্গে সঙ্গেই অবরোধ তুলে নিতে বাধ্য হয় অবরোধকারীরা। অবরোধ সরে যাওয়ার পরই ব্যারাকপুর ট্রাফিক গার্ডের আধিকারিকরা রাস্তায় নেমে যান চলাচল স্বাভাবিক করে ফেলে। মোটের উপর এই “ভারতবন্ধ” ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে সেই ভাবে কোন প্রভাবই যে ফেলতে পারলো না তা বলাই বাহুল্য। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনার যে উপযুক্ত প্রশাসনিক ব্যাবস্থা নিয়েছিলে তা আজকের বন্ধের চিত্র ও রাস্তাঘাটের মানুষ ও যানবাহনের ভীর দেখলেই দেখলেই সহজেই বোঝা যায়।

সম্পর্কিত সংবাদ