ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের, সমকামিতা আর অপরাধ নয়

Share Bengal Today's News
  • 64
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    64
    Shares

রাজীব মুখার্জী, হাওড়াঃ সমপ্রেম নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় কে উছ্বসিত আনন্দে স্বাগত জানালো এদেশের এল. জি . বি. টি. সম্প্রদায়ের মানুষেরা। এই রায়কে স্বাগত জানালো রাষ্ট্রপুঞ্জ। রাষ্ট্রপুঞ্জের থেকে বলা হয়েছে “এই রায় মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ” তারা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন “ভারতীয় সংবিধানের ৩৭৭ নং ধারার একটি অন্যতম উপাদান যা সমপ্রেমকে অপরাধ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল, আজকের এই রায়দানের মাধ্যমে সেখানেই আঘাত করে সমাজে তাদের মৌলিক অধিকার কে সুনিশ্চিত করা হলো”। সারা দেশ জুড়ে এল. জি. বি. টি. সম্প্রদায়ের মধ্যে খুশির আবহাওয়া। দীর্ঘ্য কয়েক দশকের কঠিন লড়াইয়ের পরে, তাদের দাবিকে সন্মান দিয়ে দিলো আজ সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়দান। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে এদের উপরে হওয়া অত্যাচার, সামাজিক বৈষম্য কে কাটাতে এই রায় অত্যন্ত সদর্থক ভূমিকা নেবে। প্রসঙ্গত ৩৭৭ ধারার এই আইন গে, লেসবিয়ান, বাই -সেক্সচুয়াল, ইন্টারসেক্স ও ট্রান্সজেন্ডারদের কে নিশানা করে আসতো এতদিন। আজকের রায়ের পরে গোটা দেশ জুড়ে সমকামী সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে নতুন উদ্দীপনা, মিষ্টি মুখ করানো শুরু হয়েছে কোর্টের মধ্যেই, সারাদেশেও এই একি চিত্র ধরা পড়ছে।

আর. এস. এস. থেকে প্রেস রিলিজ করে জানানো হয়েছে, তারাও মনে করে সমপ্রেম অপরাধী নয়। কিন্তু তা অপ্রাকৃতিক এবং এই দেশের সামাজিকতা, সংস্কৃতির বিরোধী। তবে এই রায় কে তারাও স্বাগত জানাচ্ছে। প্রসঙ্গত, এই দেশে এখনো প্রকাশ্যে পুরুষ ও নারীর আলিঙ্গন ও চুম্বন কে অপরাধের চোখে দেখা হয়। সমাজে কিন্তু আইনের চোখে সেটা কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়। সমাজ একে যে ভাবেই দেখুক না কেনো, এল. জি. বি. টি. সম্প্রদায়ের থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে পাঁচ সদস্যের সুপ্রিম কোর্টের জাজেস বেঞ্চ কে। এই ঐতিহাসিক রায়দান যারা করেছে, সেই বিচারপতিদের নাম হলো সি. যে. আই. মিশ্রা, আর. এফ. নারিমান, এ. এম. খান্বিলকার, ডি. ওয়াই. চন্দ্রচূড়, ইন্দু মালহোত্রা। উল্লেখ্য, সমকামিতাকে ছুট দিলেও একেবারে বাতিল হচ্ছে না আইপিসি ৩৭৭। যদি কোনও ব্যক্তি অন্য কোনও ব্যক্তির অনিচ্ছা সত্ত্বেও সমকামি সঙ্গমের চেষ্টা করেন, তা অপরাধ হিসেবেই গণ্য হবে। এবং অপ্রাকৃতিক যৌনতা, পশু-প্রাণীদের  সঙ্গে যৌনাচার, শিশুদের ওপর শারীরিক নির্যাতনকে (যৌনতা) অপরাধের চোখেই দেখা হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ