হলিউড ছবির থেকে কম খরচে দ্বিতীয় চন্দ্রাভিযান ইসরোর

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ওয়েবডেস্ক, বেঙ্গল টুডে:

আর মাত্র দু-এক মাস পর চাঁদের উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় চন্দ্রযান উত্ক্ষেপণ করবে ইসরো। মূলত এই অভিযানে চাঁদের কক্ষপথে ঘোরার জন্য থাকবে একটি অরবিটার মহাকাশযান। আর তার সঙ্গে থাকবে চাঁদের মাটিতে নামার জন্য একটি ‘ল্যান্ডার’ও চাঁদের মাটিতে নেমে ঘোরাফেরার জন্য থাকবে একটি ‘রোভার’। ‘জিএসএলভি-এমকে-টু’ রকেটে চাপিয়ে ‘চন্দ্রযান-২’ কে পাঠানো হবে চাঁদের দেশে। আর এই যানটির পৃথিবী থেকে চাঁদে পৌঁছতে সময় লাগবে প্রায় ১ মাস। এই নিয়ে দ্বিতীয় বার ইতিহাস ছোঁয়ার জন্য ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর খরচ হবে কম-বেশি ৮০০ কোটি টাকা! যা হলিউডের বিজ্ঞানভিত্তিক ছবি ‘ইন্টারস্টেলর’ তৈরির খরচের থেকেও বেশ খানিকটা কম! ২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ওই ছবিটি তৈরি হয়েছিল ১,০৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে।

উল্লেখ্য এই প্রথম কম খরচে চাঁদে চন্দ্রযান উৎক্ষেপণ করছেন না ইসরো এর আগেও হলিউড ছবির থেকে কম খরচে চাঁদে যান পাঠিয়ে নজির গড়েছিল ইসরো। ২০১৩ সালে ৪৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে মঙ্গলের কক্ষে যান পাঠিয়েছিল ভারত। সেই বছরই মানুষের মহাকাশ অভিযান নিয়ে তৈরি হয়েছিল হলিউড ছবি ‘গ্রাভিটি’। খরচ হয়েছিল ৬৪৪ কোটি টাকা।

ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, চন্দ্রযান ২ অভিযানের যাবতীয় প্রস্তুতি সারা। এই মুহূর্তে চলছে বিভিন্ন যন্ত্রের শেষ মুহূর্তের পরীক্ষা নিরীক্ষা। পৃথিবী ও চাঁদের আপেক্ষিক অবস্থান বিবেচনা করে এপ্রিলে চন্দ্রযান ২-কে শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণ করবে ইসরো। পাশপাশি আরও বলেন, ৬ চাকার এই যান ১৪ দিন সক্রিয় থাকবে চাঁদের বুকে। ১৫০ – ২০০ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করবে গাড়িটি। নানা যন্ত্রের মাধ্যমে চন্দ্রপৃষ্ঠে একাধিক পরীক্ষা চালাবে এই যান ও ছবি তুলে পাঠাবে পৃথিবীতে। পরিকল্পনা অনুসারে সন্ধ্যা থেকে ভোরের মধ্যে গোটা অবতরণ প্রক্রিয়া সারতে চায় ইসরো। কারণ, চাঁদ দিগন্তের আড়ালে চলে গেলে চন্দ্রায়ন ২-এর সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখতে পারবে না ইসরো। তাই এপ্রিলে কোনও কারণে চন্দ্রায়ন ২-এর উৎক্ষেপণ না করা গেলে অপেক্ষা করতে হবে এপ্রিল পর্যন্ত।

ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিভন জানিয়েছেন, ‘জটিল প্রক্রিয়ার সরলীকরণের মাধ্যমে ও গুণমান রক্ষার সমস্ত চেষ্টা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, সব থেকে কম খরচে সর্বোচ্চ সক্ষমতা। আমরা অপচয়ের ওপর রাশ টেনে খরচ কমিয়েছি।’ এছাড়া তিনি আরও বলেন, “চাঁদে নামার জন্য ইতিমধ্যেই মহাকাশযানটির পরীক্ষানিরীক্ষার কাজ প্রায় শেষের পর্যায়ে। ‘চন্দ্রযান-২’ যাতে নির্বিঘ্নে, নিরাপদে চাঁদে নামতে পারে, সে জন্য যে ইঞ্জিনটি ইসরো বানিয়েছে, তার পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়েছে তিরুনেলভেলি জেলার মহেন্দ্রগিরি ও বেঙ্গালুরুর চিত্রদুর্গ জেলার চাল্লাকেরে ইসরোর দুটি কেন্দ্রে। এমনকি উপগ্রহটিরও পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে পুরোদমে।”

সম্পর্কিত সংবাদ