রানাঘটে গৃহবধূর গায়ে গরম তেল ঢাললো স্বামী

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শান্তনু বিশ্বাস, গাইঘাটাঃ

বর্তমানে প্রতিদিন সকালে খবরের কাগজ হাত নিলেই প্রায়ই একই খবর দেখতে পাওয়া যায়। অর্থাৎ মেয়েদের উপর নির্যাতনের দৃশ্য এখন অহোরহোই ঘটে চলেছে। আর এই ঘটনাগুলি কিছু প্রকার মানুষদের কাছে কোন ব্যাপার নয়। সেক্ষেত্রে খবরের পাতায় প্রতিদিন চোখে পড়ছে কোথাও একটি ছোট্ট শিশু, কোথাও বা বৃদ্ধা আবার গৃহবধূ সকলেরই এই কিছু কুরুচিকর মানুষের কাছে একই স্থান পেয়েছে। আর তা হল এরা সকলেই নারী। ঠিক একইরকম ভাবে আরও এক গৃহবধূর নির্যাতনের দৃশ্য সকলের সামনে উঠে আসে। ১৮ ই জানুয়ারি রানাঘাটের বাসিন্দা সুমুন কুন্ডু এবং তার পরিবারের লোকেরা তাদের বাড়ির গৃহবধূর উপর ২০ হাজার টাকা চুরির অপবাদ দেন এবং ১৭ ই জানুয়ারি রাতে সুমুন কুণ্ডুর স্ত্রী প্রতিবাদ করলে একটি ঘরে বন্ধ করে তার যৌনাঙ্গে ও পায়ে গরম তেল ও গরম জল ঢেলে দেয় বলে অভিযোগ।

মূলত উওর ২৪ পরগনা জেলার গাইঘাটার এলাকার বাসিন্দা বিমল সাদুকার মেয়ে বছর ২০ এর টুকটুকি সাদুকার সাথে ১ বছর আগে বিয়ে হয় রানাঘাটের বাসিন্দা সুমুন কুণ্ডুর সাথে। এবং বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে নানান যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় গৃহবধূকে। সম্প্রতি তার শ্বশুরবাড়ি থেকে কুড়ি হাজার টাকা চুরি হওয়ায় সকলেই তাকে কুটুক্তি করতে থাকে বলে জানান নির্যাতিতা গৃহবধূ। এবং সেই ক্ষেত্রেই প্রতিবাদ করায় ১৭ ই জানুয়ারি রাতে তাকে একটি ঘরে বন্ধ করে তার যৌনাঙ্গে ও পায়ে গরম তেল ও গরম জল ঢেলে দেয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি তাকে সেই ঘরেই বন্দি করে রেখেছিলেন শ্বশুরবাড়ির সকলে। এরপর ১৮ ই জানুয়ারি বিকেলে গৃহবধূ তার বাড়ি অর্থাৎ গাইঘটায় পালিয়ে এলে, তার বাবা মা সমস্ত ঘটনা শুনে তাকে সাথে সাথে হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। আপাতত হাবড়া সেস্ট জেনারেল হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন নির্যাতিতা গৃহবধূটি।

এছাড়া আরও জানা যায় এই ঘটনার জেরে হাবড়া সেস্ট জেনারেল হাসপাতালে নির্যাতিতা গৃহবধূকে দেখতে টি.পি.এম. হিউম্যান রাইটস এর প্রতিনিধি দল উপস্থিত হন এবং এই সংস্থার সম্পাদক সঞ্জিব কাঞ্জিলাল জানান,অসহায় মহিলার পাশে আমরা আছি।পাশাপাশি তারা আশ্বাস দেন নির্যাতিতা মহিলার পরিবারকেও।

পুলিশি সুত্রে খবর, এই ঘটনার জেরে ১৮ ই জানুয়ারি নির্যাতিতা গৃহবধূর পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করলে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তল্লাশি শুরু করেন। কিন্তু এই ঘটনার সাথে জড়িত মুল অভিযুক্তরা অর্থাৎ গৃহবধূর শ্বশুর, শাশুড়ি, স্বামী ও ননদ উভয়ই পলাতক ছিলেন। অবশেষে এদিনই গৃহবধূর স্বামী সুমন কুণ্ড, শাশুড়ি মিতালী কুণ্ড, শ্বশুর সরজিত কুণ্ড, ননদ পায়েল কুণ্ড সকলেই গ্রেফতার করেন পুলিশ।

সম্পর্কিত সংবাদ