ব্যারাকপুর ট্রাফিক গার্ডের উদ্যোগে জাতীয় চিকিৎসক দিবসে সম্বর্ধনা দেওয়া হল ডাঃ বি এন বসু হাসপাতালের ডাক্তারদের

Share Bengal Today's News
  • 48
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    48
    Shares

 

অরিন্দম রায় চৌধুরী, ব্যারাকপুরঃ তাঁর জন্ম এবং মৃত্যু দুই-ই আজকের দিনেই অর্থাৎ ১লা জুলাই। তিনি ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না, একজন চিকিৎসক হিসাবে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। সেই কিংবদন্তী চিকিৎসক ও পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম এবং মৃত্যুদিনটি পালিত হয় জাতীয় চিকিৎসক দিবস হিসাবে। ১৮৯১ সালে তাঁর জন্ম এবং মৃত্যুদিন ১ জুলাই প্রথম চিকিৎসক দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় সরকারের তরফে।

বলাই বাহুল্য, একজন চিকিৎসকের পেশা কেবলমাত্র অর্থ উপার্জনের তাগিদেই নয়। তাঁর ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার মানুষের প্রাণ। কাজেই এ এক দায়বদ্ধতাও বটে। বর্তমানে আমূল পরিবর্তন হয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের। অত্যাধুনিক পদ্ধতির চিকিৎসায় উপকৃত প্রত্যেকেই। আর এর পিছনে অবদান যাঁদের সেই চিকিৎসকদের শ্রদ্ধা জানাতেই মূলত পালিত হয় দিনটি। তাই এই দিনটিতে এলাকার একমাত্র মহকুমা হাসপাতালের সেই সব ডাক্তারদের সম্মান জানাতে ভুললেন না ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ট্র্যাফিক বিভাগের সাব ট্র্যাফিক গার্ডের কর্মীরা।

দিনটির তাৎপর্য শেষ নয় এখানেই। কিছু কিছু দেশে চিকিৎসক দিবস অন্যতম ছুটির দিনও। পাশাপাশি দিনটিকে রেড কার্নেশন ফুলের দ্বারাও চিহ্নিত করা হয়। কারণ এই ফুলের লাল রঙটি প্রেম, চ্যারিটি, আত্মত্যাগ, সাহসেরও প্রতীক। যা এই পেশায় থাকা সমস্ত ব্যক্তির সঙ্গে অতপ্রত ভাবে জড়িত।

তবে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন দিন পালিত হয় এই ডক্টরস ডে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দিনটি পালিত হয় ৩০ মার্চ, ১৯৩৩ সালের ৩০ মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জর্জিয়ায় প্রথম পালিত হয় ডক্টরস ডে। এদিন মৃত চিকিতসকদের স্ত্রীরা তাঁদের স্বামীর কবরের উপর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ইরানে এই একই দিন পালিত হয় ২৩ অগাস্ট তারিখে। ব্রাজিলের চিকিৎসক দিবস পালিত হয় ১৮ই অক্টোবর। কিউবাতে ডিসেম্বরের ৩ তারিখটি তাঁদের জন্য Carlos Juan Finlay।

এই দিনটি অবশ্য ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ব্যারাকপুর ট্রাফিক সাব ট্র্যাফিক গার্ডের উদ্যোগে জাতীয় চিকিৎসক দিবসের সন্ধিক্ষণে সম্বর্ধনা দেওয়া হলো ব্যারাকপুরের ডাঃ বি.এন.বসু মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসকদের। এইদিন হাসপাতালে সুপার সুদীপ্ত ভট্টাচার্যের ঘরে অনুষ্ঠিত ছোট একটি অনুষ্ঠানে হাসপাতালের সুপার সহ উপস্থিত সমস্ত ডাক্তারদের হাতে ফুলের স্তবক ও মিষ্টি তুলে দেন ব্যারাকপুর এর ট্রাফিক ওসি বিজয় ঘোষ।

এই বিষয় ডাঃ সুদীপ্ত ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা যারা সারা বছর দিন রাত এক করে মানুষকে পরিষেবা দেই, আমাদের আত্মীয় পরিজন, বন্ধু বান্ধব, যৌবন সব কিছু ত্যাগ করে আমাদের দিবারাত্র জনস্বার্থে কাজ করতে হয়, সেই সময় আমাদের পাশাপাশি আমাদেরই মতন যে পুলিশ তাদের সখ আহ্লাদ, আত্মীয় স্বজন সবার থেকে দূরে থেকে রাত দিন শুধু সমাজের ভালর কথা মাথায় রেখে কাজ করেন সেই বন্ধু পুলিশে হাত থেকে সম্বর্ধনা আমাদের আরও কাজের শক্তি বাড়াল। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ট্র্যাফিক বিভাগকে আমরা আন্তরিক ভাবে অভিনন্দন জানাই ও তাদের কাজকে আমরা যে কুর্নিশ জানাই।” তিনি আরও বলেন, “আমরা সব সময় মানুষকে যেমন পরিষেবা দিয়ে থাকি তেমন পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগের কর্মীরাও সব সময় সজাগ থাকেন রাস্তায় তাদের হাত থেকে এই সম্বর্ধনা পাওয়া সত্যিই অন্য রকম একটা অনুভূতি।”

সম্পর্কিত সংবাদ