Thursday, October 20, 2022
spot_img

প্রায় কোটি টাকার প্রতারনা করে পলাতক দম্পতি

 

শান্তনু বিশ্বাস,বসিরহাটঃ উত্তর চব্বিশ পরগনার ন্যাজাট ও হাড়োয়া থেকে প্রায় এক কোটি টাকা প্রতারনা করে পলাতক দম্পতি ও পরিবারের লোকেরা। স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানিয়ে কোন লাভ না হওয়ায় জেলা পুলিশের দ্বারস্থ প্রতারিত ব্যক্তিরা। স্থায়ী সূত্রে জানাগিয়েছে, হাড়োয়া থানার অন্তগর্ত আটপুকুর অঞ্চলের উচিলদহ গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ দাস ওরফে ট্যাবলেট গত কয়েক বছর আগে বিয়ে করে ন্যাজাট থানার অন্তরগর্ত বয়ারমারী এলাকার পিয়ালী দাস নামে এক মহিলা কে। বিবাহ সূত্রে বিশ্বজিৎ প্রায়সই বয়ারমারী এলাকায় যেত। এলাকাবাসীদের সঙ্গে ভালো বন্ধুত্বও তৈরী হয়।

বিয়ে করার পর কয়েক বছর বিশ্বজিৎ কাপড়ের ব্যবসা শুরু করে ও তার স্ত্রী পিয়ালী দাস একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অস্থায়ী পদে কাজ পায়। এই ব্যাঙ্কে কাজ পাওয়ার সুবাদে ন্যাজাটের বয়ারমারী ও হাড়োয়ার উচিলদহ গ্রাম থেকে, ব্যাঙ্কে লোন পাইয়ে দেওয়া, ব্যাঙ্কে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দুই জায়গা থেকে বেশ কয়েক লক্ষ্য টাকা নেয়। এমন কি বিশ্বজিৎ কাপড় ব্যবসার লভ্যাংশের ভাগ দেওয়ার নামে ও প্রচুর টাকা ধার নেয় উচিলদহ ও বয়ারমারী এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে। এই দুই থানার দুই জায়গা থেকে প্রায় এক কোটি টাকা নিয়ে হঠাৎ পালিয়ে যায় ওই দম্পতি। বয়ারমারী এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই বিশ্বজিৎ ও পিয়ালী কে পালাতে সাহায্য করে পিয়ালির জেঠু রঞ্জন দাস। ওই ব্যাক্তি গাড়ি ভাড়া করে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে ওদের।

পালিয়ে যাওয়ার খবর জানাজানি হতেই রঞ্জন দাসের ওপর চাড়াও হয় প্রতারিত ব্যক্তিরা। এবং রঞ্জন দাস জালিয়াতদের এনে প্রতারিতদের টাকা ফেরৎ এর ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুত দিলেও এখন সে গায়েই জল পাতে না। এই অবস্থায় গরীব প্রতারিত ব্যক্তিরা ন্যাজাট থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় রবিবার তারা বসিরহাট জেলা পুলিশের দ্বারস্থ হন। স্থানীয় ন্যাজাট থানার পুলিশ কোন কাজ না করার নালিশ জানিয়ে পুরো ঘটনার তদন্তের অবেদন জানান ওই প্রতারিত ব্যক্তিরা।

বিশ্বজিৎ দাসের বাবা পরিমল দাস এর কাছে গত কয়েক মাস আগে উচিলদহ গ্রামের প্রতারিত ব্যক্তিরা টাকা ফেরৎ এর দাবী জানিয়ে গেলে পরিমল দাস তাদের কথায় কর্ণপাত করেনি।
এখন তাদের বক্তব্য, আদৌও কি তাদের কস্টের টাকা তারা ফেরৎ পাবেন? না সারদা, নারদা-র মতো ফেরৎ এর আশায় দিন গুনবে আর চোখের জল ঝরাবে?। ওই দম্পতি কি অন্যত্র পালানোর পর পুলিশের হুস ফিরবে? এমন নানা প্রশ্ন তুলছে দুই গ্রামের প্রতারিত ব্যক্তিরা।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
3,533FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles