Monday, August 15, 2022
spot_img

হিট ওয়েভের দাপটে স্কুল গুলিতে বাড়তি ছুটির ঘোষণা সরকারের

ওয়েবডেস্ক, বেঙ্গল টুডেঃ

সম্প্রতি গরমের ছুটি শেষ হয়ে কয়েক দিন আগেই স্কুল খুলেছে আর এর মধ্যে আবারও ‘গ্রীষ্মের ছুটি’ ঘোষণা করতে হল রাজ্য সরকারকে। কারন এবছর কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। স্বাভাবিকের থেকে সাত ডিগ্রি বেশি। এটাই এক দশকের নিরিখে জুনে মহানগরীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

মূলত আবহাওয়া দফতরের পরিভাষায় গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে পাঁচ ডিগ্রি বেশি হলেই সেটাকে বলা হয় তাপপ্রবাহ। এবার চৈত্র-বৈশাখেও রাজ্যে তাপপ্রবাহ বইতে দেখা যায়নি। এমনকি বাঁকুড়া-পুরুলিয়ার মতো শুখা জেলাতেও গ্রীষ্মের সেই দাপট ছিল না। কিন্তু এখন জেলাগুলিতেও পারদ ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে গরমের এই দাপট চলবে বলেই আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (পূর্বাঞ্চল) সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বর্ষা দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। সাগর থেকে পুবালি হাওয়ার বদলে উত্তর ও মধ্য ভারত থেকে গরম হাওয়া ঠেলে ঢুকছে গাঙ্গেয় বঙ্গে। তাই এই দশা।’’ যদিও দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা সমাগমের ঘোষণা নিয়েই সন্দিহান অনেকের। ‘‘বর্ষা আদৌ গাঙ্গেয় বঙ্গে এসেছে কি,’’ প্রশ্ন আবহবিজ্ঞানী সুতপা চৌধুরীর।

অপরদিকে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার কলকাতায় তাপপ্রবাহ বইবে, তাপমাত্রা ছোঁবে ৪০ ডিগ্রি। কিন্তু মেঘবৃষ্টিতে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রিও ছোঁয়নি। সোমবার আর্দ্র ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া চলবে বলে জানানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল, দিনের তাপমাত্রায় বড় ধরনের বদল হবে না। কিন্তু হল উল্টো! এ দিন সকাল থেকেই গরম হাওয়া (লু) বয়েছে। অর্থাৎ আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস সম্পূর্ণ ব্যর্থ। যদিও পূর্বাভাস পুরো ব্যর্থ, এমন অভিযোগ মানতে রাজি নয় আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

আর রাজ্যের এই তাপপ্রবাহের জেরেই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সোমবার জানান, কাল, অর্থাৎ ২০শে জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সরকারি, সরকারি সাহায্যপুষ্ট স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বেসরকারি স্কুলগুলিকেও এই বাড়তি ছুটি দিতে অনুরোধ করেছেন তিনি। “প্রবল তাপপ্রবাহ চলছে। পড়ুয়াদের স্কুলে যেতে সমস্যা হচ্ছে। তাই মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি থেকে ফেরার পরে তাঁর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে,” বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তবে এই বাড়তি ছুটির ফলে যে-সব ক্লাস নেওয়া যাচ্ছে না, সেগুলো পরে যাতে পুষিয়ে দেওয়া হয়, সে-দিকে নজর রাখতে বলেছেন পার্থবাবু।”

উল্লেখ্য কয়েক বছর আগেও এক বার গরমের ছুটি দীর্ঘায়িত হয়েছিল। কিন্তু তখন ক্যালেন্ডারে ছিল গ্রীষ্মকাল। অর্থাৎ পঞ্জিকার কাল-বিভাজন অনুযায়ী দহন-দাপট ছিল স্বাভাবিক।

Related Articles

Stay Connected

0FansLike
3,437FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles