নাবালিকার বিয়ে রুখল সহপাঠীরা

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

জয় চক্রবর্তী, বাগদাঃ দেশের মধ্যে বৃহতর সামাজিক সমস্যার মধ্যে বাল্য বিবাহ একটি জলন্ত জীবন্ত সমস্যা। একুশ শতকের তীব্র সচেতনতার যুগেও কোথাও লুকিয়ে রয়েছে অসচেতনার কালো মেঘ। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই বাল্যবিবাহের ঘটনা সহজে রোখা যাচ্ছে না। সপ্তম কিংবা নবম শ্রেণির পাঠ চুকিয়েই মেয়েরা সাত পাকের বাঁধনে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে। এর জন্য অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবকেই দায়ী করছে প্রশাসন। কিন্তু প্রতিবন্ধকতা ঘুরেফিরে সেই একটাই, বাল্যবিবাহ।

সেই বাল্যবিবাহের ঘটনা এবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলাতেও। তবে আসার বানী এটাই যে বর্তমানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রীরা অনেকটাই জাগ্রুক তা বলাই বাহুল্য। আপাতত রুখে দয়া গেল এই বাল্যবিবাহ। খবরে প্রকাশ বাগদা থানা এলাকার ঘাটপাতিলা গ্রামের লাভলি মণ্ডল নামে ভবানিপুর পল্লী মঙ্গল বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির নাবালিকা ছাত্রীর বিবাহ বন্ধ করল তার সহপাঠী ও স্কুলের শিক্ষকরা।

সূত্র মারফৎ জানা যায় রঞ্জন মণ্ডল পেশায় ঠিকাদার, তার মেয়ে লাভলির বিয়ে ঠিক করে নদীয়ার মাঝের গ্রাম এলাকায়। গতকাল অর্থাৎ ১৮ই জুন, সোমবার দুপুরে লাভলির আশির্বাদ পর্ব চলছিল, এবং রাতে বিয়ে ছিল।

বাল্যবিবাহের মুহূর্ত

টিফিন পিরিয়ডে কিছু ছাত্রী ওই বিয়ের কথা গিয়ে প্রধান শিক্ষককে জানায়। প্রধান শিক্ষকও সময় নষ্ট না করে প্রধান শিক্ষক স্বয়ং, আরও বেশ কিছু শিক্ষক ও কিছু ছাত্রীদের নিয়ে ওই মেয়েটির বাড়ি গিয়ে উপস্থিত হন।

মেয়ের বাবা রঞ্জন মণ্ডল পেশায় ঠিকাদার

সেখানে মেয়েটির বাবাকে বোঝানোর চেষ্টা শুরু করেন এরই মধ্যে উপস্থিত হয় ব্লকের বিডিও অফিসের লোকেরা, বোঝানো হয় কন্যাশ্রী প্রকল্পের বিষয়। অবশেষে নাবালিকা মেয়ের বিয়ে দেবে না এমন লিখিত প্রতিশ্রুতি দেয় এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেয় মেয়েটির বাবা।

ভবানিপুর পল্লীমঙ্গল বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক

প্রধান শিক্ষক এই বিষয় আমাদের বলেন, “আমি যখন জানতে পারলাম এই বিষয় তখন আমার কাছে প্রধান প্রশ্ন হয়ে ওঠে, তাহলে সরকার কেন কন্যাশ্রি প্রকল্প চালু করেছেন যদি আমরা তা বাস্তবায়িত নাই করতে পারলাম? তাই আমি এবং আমার সাথে আরও ১৩জন শিক্ষক গিয়ে উপস্থিত হই ওই ছাত্রীর বাড়ী। একটু বোঝানোর পরেই মেয়েটির বাবা রাজি হয়ে যায়।” তিনি আরও বলেন, “এই বাল্যবিবাহ সমাজের ব্যাধি তাই এই বিয়ে বন্ধ করে আসলে আর যে সব অভিভাবক তাদের ছোট্ট মেয়ের বিয়ে দেওয়ার চিন্তা করছেন তাদের কাছে একটি বার্তা পাঠাতে সক্ষম হলাম।”  আপাতত রোকা গেল একটি বাল্যবিবাহের ঘটনা। তবে এই ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রীদের এহেন পদক্ষেপে স্বভাবতই খুশী প্রশাসন থেকে শুরু করে এলাকা বাসি।

সম্পর্কিত সংবাদ