ঈদের খুশিতে সব অশান্তি ভূলে শ্বশুর বাড়িতে আসতেই খুন গৃহবধু

Spread the love
  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6
    Shares

 

শান্তনু বিশ্বাস ,বসিরহাট:

সংসার মানেই সব সময়ই শান্তি, খুশী নয়, মাঝে মধ্যে একটু অশান্তিও। তা প্রায় সকলেরই জানা। আর এরই মধ্যে খুশির ঈদ আসায় দীর্ঘ দিনের পারিবারিক অশান্তির সব কথা ভুলে, খুসীর ঈদে স্বামীর কাছে এসেছিলো গৃহবধু। খুসীর দিনে স্বামী, স্বশুর এর একটু স্নেহ ভালোবাসা পাওয়ার আশায় ছুটে গিয়েছিলো নিজের জন্ম দাতা বাবা মা কে ছেড়ে। কিন্তু সেই স্নেহ পাওয়া তো দূরে থাক বরং সেই স্বামী, শ্বশুরের হাতেই প্রাণ গেল এক নিষ্পাপ গৃহবধুর, অতন্ত এমনটাই অভিযোগ ওই গৃহবধূর পরিবারের। এমনই এক দুঃখজনক ঘটনা ঘটে গেল উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাটের পিফা পঞ্চায়েতের আটকরিয়া গ্রামে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বসিরহাটের পিফা পঞ্চায়েতের আটকরিয়া গ্রামের বাসিন্দা বাবু গাজীর মেয়ে রেশমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল কয়েক বছর আগে এই একই গ্রামের আফসার গাজীর ছেলে সালেম গাজীর সঙ্গে।একে অপরের প্রতি অটুট ভালোবাসার জ্বেরে, শুধু প্রেমের সম্পর্কেই থেমে থাকেনি তাদের সম্পর্ক। অবশেষে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় কয়েক বছর আগে। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবার পর, বছর ফিরতে না ফিরতেই তাদের একটি পুত্র সন্তানও জন্ম নেয়। কিন্তু এই পুত্র সন্তান জন্ম নেবার পর রেশমা-সালেমের মধ্যে ফাটল ধরতে থাকে সম্পর্কের।

অভিযোগ তাদের মধ্যে ছোট খাটো বিষয় গুলো বড়ো করে দেখতে শুরু করেছিলো সালেম। নানা কারনে রেশমা কে মারধোর করতো সালেম। পেশায় দর্জি সালেমের এমন অত্যাচার চরমে ওঠায়, বাধ্য হয়ে সংসার ছেড়ে ছোট্ট ছেলে কে নিয়ে রেশমা চলে আসে তার বাপের বাড়ি।

এলাকার এক বাসিন্দার কথায় এরই মধ্যে আসে খুসির ঈদ। বাপের বাড়িতে বেশ কয়েক মাস থাকার পর কাছের মানুষের কাছে যেতেই শনিবার খুসির ঈদে রেসমা গিয়ে পৌছায় তার শ্বশুরবাড়িতে। এই খুসির ঈদে সবাই তাদের পুরোনো রাগ, বিবাদ সব ভূলে আবার একে ওপরের কাছাকাছি চলে আসে। সেই ভেবেই নিজের ভালোবাসার মানুষের কাছে এসেছিলো একটু স্নেহ ভালোবাসা পাবার আশায়। সমস্ত রাগ, অভিমান ভূলে রেশমা আবার নিজের সংসার টা গুছিয়ে নেওয়ার জন্য জন্ম দাতা বাবা মা কে ছেড়ে চলে এসেছিলো শ্বশুর বাড়িতে। কিন্তু সে সব জেনো কোথায় উলোট পালট হয়ে গেলো। যাদের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের বাবা মা কে ছেড়ে এসেছিলো রেশমা, তাদের হাতেই প্রাণ দিতে হলো।

এই ঘটনার পরিপেক্ষিতে রেশমার বাবা মায়ের অভিযোগ, রেশমার সন্তান হবার পর ই রেশমা কে তাড়িয়ে দিয়ে ছিলো সালেম। রেশমা কে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিলো। সালেম রেশমা কে তার জীবন থেকে সরাতে চেয়েছিলো। তাতে রাজী না হওয়ায় সালেম ও তার বাড়ির লোকেরা রেশমা কে বিষ খাইয়ে মেয়ে ফেলেছে। শনি বার রাতে রেশমার বিষ খাওয়ার খবর শুনে তড়িঘড়ি রেশমার শ্বশুরবাড়িতে এসে, সেই রাতেই তাকে কলকাতায় নিয়ে য়াওয়ার পথে মৃত্যু হয় রেশমার। এই ঘটনায় সালেম ও তার পরিবারের মোট সাত জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হবার পর থেকেই পলাতক সবাই। তবে রেশমার দেওর আব্দুল আলিম কে গ্রেফতার করেছে পুলিস। গোটা ঘটনাটিই তদন্ত শুরু করেছে বসিরহাট থানার পুলিশ।

সম্পর্কিত সংবাদ