31 C
Kolkata
Saturday, June 15, 2024
spot_img

ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ রুখতে কড়া হাতে তৎপর দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন

পল মৈত্র, দক্ষিণ দিনাজপুরঃ

এই ঘটনার সাক্ষী শুধু রাজ্যেই নয় সারা ভারত বর্ষেই হচ্ছেন সকল ভারতবাসী। আর এই রাজ্যে অন্য জেলার পাশাপাশি দক্ষিণ দিনাজপুরেও পরিসংখ্যান অনুযায়ী কন্যা সন্তানের জন্মের হার কমছে ব্যাপকভাবে। জেলায় পুরুষ ও মহিলা জনংসখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখতে তাই সক্রিয় হল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

গর্ভস্থ ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ বন্ধ করতে শুরু হল সচেতনতামূলক কর্মসূচি। যদিও এই মর্মে নিশেধাজ্ঞা রয়েছে অনেক পূর্ব থেকেই কিন্তু এতদিন শত সরকারী নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্তেও দিব্যি রমরমিয়ে চলছিল এই ঘটনা বেশ কিছু স্থানে। এইবার স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে জড়িত সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওদের নিয়ে নিয়মিত কর্মসূচি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

উল্লেখ্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী দেশে প্রতি একহাজার পুরুষে মহিলার সংখ্যা ৯৪০। এরাজ্যে সেই সংখ্যা ৯৫০। দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রতি হাজার পুরুষে মহিলার সংখ্যা ৯৫৬। বালুরঘাট সদর এবং গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতাল ছাড়াও জেলায় রয়েছে ৮টি গ্রামীণ বা ব্লক হাসপাতাল। দেখা যাচ্ছে, প্রতিবছরই জেলার বিভিন্ন হাসপাতালগুলিতে ধারাবাহিকভাবে কন্যা সন্তানের জন্মের হার কমছে।

এই ক্ষেত্রে কন্যা সন্তানের জন্মের হার কমার পিছনে গর্ভস্থ ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণকেই দায়ি করা হয় অনেক ক্ষেত্রে।
জেলার বিভিন্ন নার্সিংহোম, প্যাথলজিক্যাল ল্যাবে গর্ভস্থ ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ পরীক্ষা করা হয় বলে আগেও অভিযোগ উঠেছে। তাতে শিশুর পরিবার জেনে যাচ্ছে গর্ভস্থ ভ্রুণ কন্যা না পুত্র। গর্ভস্থ ভ্রুণ যদি কন্যা হয় তাহলে অনেক সময় গর্ভপাত করানোর মতোও ঘটনা সামনে আসছে। এই কারণে কমছে কন্যা সন্তানের জন্মের হার।

সেদিকে নজর রেখে এবার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সচেতনতা প্রচারে নামছে। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের উদ্যোগে স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে জড়িত সমস্ত সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ক্লিনিকের কর্মকর্তাদের নিয়ে কর্মশালা ও নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচার চালানো শুরু হয়েছে।

জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে বলেন, “সমাজে মহিলাদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বিজ্ঞানসম্মত বিষয়। কিন্তু, আগেই ভ্রূণ নির্ধারণের ফলে বাধা পাচ্ছে কন্যা জন্মদান। জন্মের আগে লিঙ্গ নির্ধারণ যে একটি বড় অপরাধ, এনিয়ে বিশেষ কর্মসূচি শুরু করা হল। স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে জড়িত ক্লিনিক, নার্সিংহোম, স্বেছাসেবী সংস্থা ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা শুরু হয়েছে।”

Related Articles

Stay Connected

17,141FansLike
3,912FollowersFollow
21,000SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles