/তিন তালাকের শিকার থেকে বাদ যায় নি ভারতীয় ট্রাজেডী কুইন

তিন তালাকের শিকার থেকে বাদ যায় নি ভারতীয় ট্রাজেডী কুইন

 

Anupama Dutta, Mumbai: দেশ থেকে কার্যত বাতিল হয়ে গেল বহুদিন ধরে চলে আসা তিন তালাক প্রথা। নানা তর্ক বিতর্কের পর অবশেষে মঙ্গলবার ২২শে  আগস্ট শেষ হলো ভারত জুড়ে তিন তালাকের পর্ব। এদেশের মুসলিম মহিলাদের এই অভিশপ্ত তিন তালাকের নাগপাশ থেকে  মুক্তির ছাড়পত্রে স্বাক্ষর করল সুপ্রিম কোট। মঙ্গলবার তাৎক্ষণিক তালাক প্রথাকে অসংবিধানিক বলে রায় দিয়ে সুপ্রিমকোর্ট মুসলিম  মহিলাদের জীবনে মুক্তির স্বাদ এনে দিল

দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম সমাজে এই তিন তালাক প্রথাকে বহু ক্ষেত্রে অপব্যাবহার করা  হচ্ছিল বলেই এর বিরুদ্ধে অনেকেই আওয়াজ তোলে। শায়রা বানু, নাজীয়া সাবরি, ইশরাত জাহান এর মতো আরও অনেকে সুপ্রিম  কোটের দ্বারস্থ হয় এবং এই তিন তালাকের উপর পিটিশন ফাইল করেছিল

২২শে আগস্ট সুপ্রিমকোর্ট  রই রায় জানায়। আগামী ৬  মাসের জন্য তিন তালাকের উপর স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। এই বিষয়ে ৬ মাসের মধ্যেই কেন্দ্রকে আইন প্রণয়ন করতে হবে।  এই ৬ মাসের মধ্যে কোনো মহিলাকে তিন তালাক দেওয়া চলবে না। আমরা সকলেই জানি, ভারতীয় সিনেমা জগতের ট্রাজেডী  কুইন মীনা কুমারীর জীবনের কথা। দিলীপ কুমারকে যেমন সিনেমা জগৎ এর কিং বলা হয়, তেমনি মীনা কুমারী ছিলেন সিনেমা   জগৎএর কুইন। এই অভিনেত্রীর বিবাহিত জীবন ছিল দুঃখে ভরা। তাকেও তিন তালাকের শিকার হতে হয়েছিল

মীনাকুমারীর জন্ম  স্থান ছিল মুম্বাই। ১লা আগস্ট, ১৯৩২ সালে মিনাকুমারী জন্মগ্রহন করেন। তার ডাক নাম ছিল মেজীবী বানু। পিতা ছিলেন আলী  বক্স। খুবই অল্প বয়সে সিনেমা জগৎএর সাথে নিজেকে যুক্ত হয়ে পরেছিলেন, অভিনয় জগৎতে এসে পরিচয় হয় কমল আমরোহীর  সাথে১৯৫২ সালে ইসলাম ধর্মে মিনাকুমারীর সাথে কমল আমরোহীর নিকাহ হয়। কিন্ত বেশি দিনের জন্য তাদের বিবাহিত জীবন  সুখের হয়নি

একদিন পারিবারিক বচসায় রাগের বশে তিন তালাক দিয়ে দেয় কমল। ১৯৬৪ সালে বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ায়  ব্যাক্তিগত জীবনেও ভেঙ্গে পরেন এই অভিনেত্রী। এর কিছুদিন পর আস্তে আস্তে কমল তার রাগ নিয়ন্ত্রনে আনেন এবং নিজের ভুল  বুঝতে পারেন। এরপর সে আবার তার পুরোনো বৈবাহিক সম্পর্কে ফিরতে চান। মিনাকুমারীরও সেই একই ইচ্ছা ছিল। কিন্ত তাদের  ধর্মের এই তিন তালাক তাদের পুনরায় এক হবার সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দেয়

তখন আরেক মুসলিম প্রথা নিকাহর হালালার পথ  বেছে নেন কমল ও মীনা। যেখানে আগের স্বামীকে পুনরায় বিয়ে করার জন্য অন্য কাউকে বিয়ে করতে হবে, তারপর তাঁর থেকে  তালাক নিয়ে আগের স্বামীর সঙ্গে পুনরায় নিকাহ করা যাবে। মীনা আর কমল শেষ পর্যন্ত এই রাস্তা বেচে নেয়

মীনাকে বিয়ে করার  জন্য নিজের কাছের বন্ধু অমন উল্লাহ খানকে অনুরোধ করেন কমল। নিজের ভালবাসা বাঁচাতে অমনকে বিয়ে করেন মীনা কুমারী। একমাস সংসারও করেন অমনের সঙ্গে। নিজের পুরোনো ভালোবাসাকে ফিরে পাওয়ার জন্য এতবরো বলীদান তাকে তার জীবনে  দিতে হয়েছিল, তারপর তাঁর থেকে তালাক নিয়ে আবারও নিকাহ করেন কমল আমরোহীর সঙ্গে। পরবর্তীকালে নিজের ব্যক্তিগত  জীবনের এইসব দুঃখের কথা, সম্পর্কের কথা উঠে এসেছিল অভিনেত্রীর লেখা কবিতায়। ১৯৭২ সালে
মৃত্যু হয় মিনাকুমারীর

এই  রকমই হাজার হাজার মহিলাদের উপর অন্যায় হয়ে গেছে এই তিন তালাকের নামে। অবশেষে সমাপ্তি ঘটল এই প্রথার। মুক্তি পেল  মুসলিম নারী সমাজ

Advertisements