/তালাক, তালাক, তালাক – অসাংবিধানিক

তালাক, তালাক, তালাক – অসাংবিধানিক

 

Anupama Dutta, New Delhi: অবশেষে ২২শে আগষ্ট শেষ হলো ভারত জুড়ে তিন তালাকের অধ্যায়। যদিও বা মুসলিম সমাজে বহু কাল থেকেই চলে আসছিল  এই প্রথা। এই প্রথার জন্য মুসলিম সমাজের অনেক নারীকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে, অন্তত এমনটাই শোনা যায় সুপ্রিম  কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া সায়রা, নাজীয়া বা ইশরাতদের মুখ থেকে, আর সেই মত গত বছর ২০১৬ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারিতে প্রথম এই  তিন তালাক এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোট’ এ পিটিশন ফাইল করা হয়েছিল। তারই সাথে সাথে “হালালা ও বহু বিবাহর” মত  নিয়মগুলো এর সাথে যুক্ত করা হয়েছিল

তিনতালাকের জন্য সুপ্রিমকোর্ট এ যারা যারা পিটিশন ফাইল করেছিল তাদের মধ্যে  কয়েকজন এর নাম হলো শায়রা বানু, ইশরাত জাহান, নাজিয়া সাবরির মতো আরও অনেক মুসলিম মহিলারা

এর ঠিক একমাস পরে ২৮শে মাচ’ অ্যাপেক্সকোর্ট  ভারত সরকারকে “নারী ও আইন” শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায় এর প্যানেলের  প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি দাখিল করতে বলে

২৯শে জুন, ২০১৬ সালে অ্যাপেক্সকোর্ট বলে মুসলিম সমাজের মধ্যে “তিন তালাক” প্রথাটি সাংবিধানিক কাঠামোর অন্তরগত  আদৌকিনা সেটা কষ্টিপাথরে পরীক্ষা করে দেখা হবে

এরপর ৭ই অক্টোবর ২০১৬ সালে ভারতীয় সংবিধানে এই প্রথমবার সুপ্রিম কোর্টে তিন তালাকের বিষয় বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয়  সরকার, এবং নারী  পুরুষের সম অধীকার ও ধর্ম’ নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে এই প্রথাগুলিকে পুনরায় যাচাই করার প্রয়োজন বলে মনে  করে

১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭এ সুপ্রিম কোর্ট পাঁচ বিচারপতি দ্বারা গঠিত এক সাংবিধানিক বেঞ্চের গঠন করে

২৭শে মাচ’ সর্বভারতীয় মুসলিম পার্সোনাল ল বোড’ (এ আই এম পি এল বি) সুপ্রিমকোর্ট কে বলে এই বিষয়টি বিচার বিভাগের  আওতার বাইরে পড়ে

দুই সপ্তাহ পর, ১১ই এপ্রিল, কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টকে বলে যে এই প্রথা মুসলমান নারীদের মৌলিক অধিকারের কথা  অস্বীকার করে, যা ভারতীয় সংবিধানের দ্বারা তাদের কাছে নিশ্চিত ছিল। বিষয়টিকে সুপ্রিমকোট’ এর সামনে তুলে ধরার পর,  বিএসপি প্রধান মায়াবতী ১৪ই এপ্রিল বলেন, সুপ্রিম কোর্টকে নিশ্চিত করা উচিত যে মুসলমান মহিলাদেরকে ন্যায়বিচার প্রদান করা  হচ্ছে। এর দুই দিন পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই এই বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং বলেন, মুসলমান নারীদের প্রতি তিন  তালাক নিয়ে যে অন্যায় করা হচ্ছে তা বিচার করা হবে

এ আই এম এল পি এল বি, ওই একই দিনে, আচরণবিধি জারি করার সিদ্ধান্ত  নেয়ে, এবং সতর্ক করে দেয় যে যারা শরিয়াত আইন ছাড়া তাদের স্ত্রীদের তালাক দেবে তাদের সামাজিক বয়কটের সম্মুখীন হতে  হবে। এর দুই দিন পর, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সকল মন্ত্রীদের যারা এই বিষয়ে নীরব ছিলেন তাদের ডেকে  পাঠান, এবং বলেন, যে মন্ত্রীরা তিন তালাকের অনুশীলন করছেন তাদের সমানভাবে দায়ী করবেন তাঁর বক্তৃতায় তিনি মহাভারতের  দ্রৌপদীকে অপব্যবহারের ঘটনাবলীর সাথে বিবাহের তালাকের তুলনা করেন

২১শে এপ্রিল ২০১৭ দিল্লি হাইকোর্ট মুসলিম পুরুষের সাথে বিবাহিত হিন্দু নারীদের উপর তিন তালাকের প্রথা শেষ করার জন্য  একটি আবেদন প্রত্যাখ্যান করে

৩রা মে, ২০১৭ প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং সিনিয়র আইনজীবী সালমান খুরশিদকে ট্রিপল তালাকের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ  করার আবেদন জানানোর জন্য আমিকাস কুরি হিসাবে অনুমতি দেওয়া হয়ে

১১ই মে, ২০১৭ সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করে যে, শুনানির সময় নির্ধারণ করা হবে যে, ত্রিপল তালাকের অনুশীলন মুসলমানদের জন্য  ধর্মের মৌলিক কিনা। সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে বিচারপতি জশশেখহারের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ বিচারপতি দ্বারা সাংবিধানিক বেঞ্চের  সামনে শুনানি শুরু হয়শুনানিতে, ট্রিপল তালাকের অনুশীলনটি “সবচেয়ে খারাপ” এবং বিবাহের বিলোপের “অনিবার্য” রূপ হিসেবে  বর্ণনা করা হয়ে

১৫ইমে রাহাতগি সুপ্রিম কোর্টকে বলেছিলেন যে, মুসলমানরা মুসলমানদের মধ্যে বিয়ে এবং বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি  নতুন আইন প্রণয়নের জন্য কেন্দ্রে কাজ করবে, যদি তিন তালাকের সকল ফর্ম অসাংবিধানিক বলে ঘোষিত হয়। 16 ই মে,  এআইএমএলপিএলবি আদালতকে বলেছিল যে এই প্রথাটি বিশ্বাসের বিষয় এবং বিষয়টি সাংবিধানিক নৈতিকতা দ্বারা প্রশ্নবিদ্ধ করা  যায় না

অবশেষে ২২ শেআগস্ট, ২০১৭ সুপ্রিম কোর্ট, পৃথক রায় পড়ার পরে,  ৩:২ এর সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে তিন তালাকের প্রথা অবৈধ্য বলে  ঘোষনা করেনসুপ্রিম কোর্ট এই প্রথার ওপর আঘাত দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তিন তালাকের ওপর একটি আইন প্রণয়ন করতে  আদেশ দেয়। আর এরই সাথে সাথে সারা দেশে বাতিল হয় তিন তালাক অধ্যায়

Advertisements