ফের ডেঙ্গুর জেরে মৃত্যুর কলে ধলে পড়লো একটি তরতাজা প্রান

Spread the love
  • 14
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    14
    Shares

শান্তনু বিশ্বাস, বাদুরিয়াঃ গত বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যের সংখ্য ছিলো প্রায় শতাধিক। তার মোকাবিলার চেষ্টা কম করেনি রাজ্য সরকার। তা সত্ত্বেও সব চেষ্টার মাঝেও হার মানতে হয়েছিল অনেক কে। যতই দিন যাচ্ছিল আক্রান্ত সংখ্যা ততই যেন বাড়ছিল। হাসাপাতাল, নার্সিংহোম এমন কি পাড়ার হাতুড়ে ডাক্তাদের কাছে ভীড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। হাসাপাতালের বাইরে অস্থায়ী ক্যাম্প হয়েছিল আবার কোথাও শ্বাস্থ্য শিবির খুলতে হয়েছিল রাজ্য সরকার কে। তবে ধীরে ধীরে বর্ষা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে গেলেও মৃত পরিবারের সদস্য রা আজও মৃতদের কথা ভূলতে পারেনি। উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া মারাকপুর সহ দেগঙ্গা বিভিন্ন এলাকায় জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিল বিভিন্ন মানুষ। এ বছর বর্ষার শুরুতেই এক মৃতার পরিবার তাদের আপনজনের স্মৃতির কথা মনে করে ক্ষোভ উগরে দেন। গত বছর জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় হরেন মণ্ডলের মেয়ে এক মাত্র মেয়ে, তিনি বলেন, “এমন জ্বরে যেন কোনও মায়ের কোল খালি না হয়”। বর্ষাকাল আসলেই ডেঙ্গুতে মৃত পরিবারের সদস্যদের চোখ আজও ছলছল করে ওঠে। গত বারের ডেঙ্গুর কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এবার আগাম ডেঙ্গু মোকাবিলায় মাঠে নেমে পড়েছে রাজ্য সরকার। কোথাও গাপ্পি মাছ ছাড়া,কোথাও ড্রেন, নালা পরিস্কার করা আবার কোথাও চুন-ব্লিচিং ছড়ানোর খবর পাড়ায় পাড়ায় ফ্লেক্স ব্যানারে চোখে পড়ছে যথেষ্ট। কিন্তু সেই প্রচেস্থা যে ফ্লেক্স ব্যানারেই সীমাবদ্ধ তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো বাদুড়িয়ার এক ঘটনা। এবার বর্ষ শুরু হতেই আবার সেই ডেঙ্গুর উপদ্রব দেখা গেলো উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার কাটিয়াহাট এলাকায়। কিন্তু সেই কথা এখনো এই বিষয় ভারপ্রাপ্তদের চোখের সমান আশেনি। কাসের আলী মোল্লার মৃত্যুর ঘটনায় ফের আরও একবার মনে করিয়ে দিল ডেঙ্গু জ্বরের ঘটনা। গত কয়েক দিন আগে জ্বর হওয়ায় প্রথমে পাড়ারই এক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করছিলেন ওই ব্যক্তি। তাতে জ্বর না কমায় ওই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো বসিরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় ওই ব্যক্তি কে। সেখানে চিকিৎসা করার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কলকাতার স্থান্তরিত করা হয়। পরিবারের লোকেরা কলকাতার হাসাপাতালে নিয়ে ভর্তি না করিয়ে কলকাতার একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখায় ভর্তি করানোর পর ৩রা আগস্ট, শুক্রবার গভীর রাতে মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে পুরো এলাকাবাসী। তাদের দাবী, গতবার এই ঘটনায় হুঁশ ফেরেনি প্রশাসনের। এবার বর্ষা শুরু হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় জল জমে গিয়েছে। জমা জল পরিস্কার করাতো দূরে থাক, আগাম ব্লিচিং, চুন বা ডিডিট স্প্রে করার কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি প্রশাসন। এলাকাবাসীরা প্রশ্ন তুলেছে, আর ওই পদক্ষেপ গ্রহন না করায় আর কত জীবন দিয়ে মাশুল গুণতে হবে এই ভাবে কাসিফ আলীর মতো?। বর্ষার শুরুতেই এমন ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছরিয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়।

সম্পর্কিত সংবাদ