একাদশ শ্রেণীর ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুঃ পুরোনো রাগ মেটানোর জন্যই কি খুন হতে হলো বিনায়ক কে?

Spread the love
  • 13
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    13
    Shares

 

শান্তনু বিশ্বাস, বারাসাতঃ মধ্যমগ্রাম বয়েজ উচ্চ বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেনীর কলা বিভাগের ছাত্র বিনায়ক এর জলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় নয়া মোড়। মৃত ছাত্র বিনয়ক চক্রবর্তীর বাবা মায়ের অভিযোগ, তাকে পরিকল্পনা করে বিষ খাইয়ে মারধোর করে পুকুরের জলে ফেলে খুন করা হয়েছে। এই অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের ৩০ জন ছাত্রের বিরুদ্ধে মাটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে মৃত ছাত্রের বাবা সুশীল চক্রবর্তী। এই ঘটনার পরিপেক্ষিতে মৃত ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে মধ্যমগ্রামের এক ক্যারাটে শিক্ষকের ছেলে শিবার নাম উঠে আসছে। এই শিবার সঙ্গেই গত কয়েক মাস আগে, তাদের এক বান্ধবী কে নিয়ে ঝামেলা হয় বিনায়কের। মৃত ছাত্রের বাবা মায়ের দাবী তাদের একমাত্র সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় শিবার প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে। পুলিস এই শিবার খোঁজ শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। বিনায়কের নাক, কান দিয়ে রক্তপাত হয়েছে এবং মুখ দিয়ে গ্যাজা ও বেরিয়েছে, তাই পুলিশদেরও প্রাথমিক অনুমান বিনায়ক কে খুন করা হয়েছে। কিন্তু ময়নাতদন্তর রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত পুলিশ মুখ খুলতে চাইছেনা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকজন ছাত্রের কথা বার্তায় অসঙ্গতি মিলেছে। দত্তপুকুর থানার বামনগাছির বামনপাড়া এলাকায় বাড়ি বিনায়কের। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মা শ্যামা চক্রবর্তী শোকে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পাশাপাশি এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মৃত বিনায়কের প্রতিবেশী সুত্রে জানা গিয়েছে, একটু রাগী মানসিকতার ছেলে হলেও এলাকায় ভাল ছেলে হিসেবেই সবাই চিন্ত বিনায়ক কে। বিনায়কের বাবা সুশীল বাবু বলেন, সোমবার স্কুলে যাওয়ার একটু আগেই, অর্নভ নামে এক বন্ধু তাকে ফোন করে। ফোনে কথা বলার পর ছেলে স্কুলে বেরিয়ে যায়। তারপর বিকেল ৫টা নাগাদ জানতে পারি আমাদের ছেলে আর নেই। আর কখোনো বাবা ডাক শুনতে পাবো না। সুশীল বাবুর অভিযোগ, “ছেলের মৃতদেহ দেখেই আমার সন্দেহ হয়। ছেলের কান ও নাক দিয়ে রক্ত ঝরেছে। মুখ দিয়ে গ্যাজা বেরিয়েছে। জামা প্যাণ্ট ছেঁড়া। ছেলেকে কোন খাবারের সাথে বিষ খাইয়ে মারধোর করে জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আর সেই কারনেই মৃত্যু হয়েছে আমার ছেলের। তাকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে”।

কিন্তু তাকে কেন খুন করা হল? এই প্রশ্নের উত্তরে বিনায়কের বাবা বলেন, “বিনায়ক কয়েক মাস আগে শিবা নামে মধ্যমগ্রামের একটি ছেলের কাছে ক্যারাটে শিখতো। এই শিবা তাঁরই এক বান্ধবীর নাম করে নানা রকম নোংরা নোংরা কথা বলতো, আমার ছেলে নাকি তার সঙ্গে শারিরীক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে। এই ভাবে নানা বদনাম দেওয়ার কারনে শিবার উপর খুব রেগে গিয়েছিলো বিনায়ক। এই কারনে শিবার কাছ থেকে ক্যারাটে শেখা ছেড়ে শিবার বাবার কাছে ক্যারাটে শেখা শুরু করেছিলো বিনায়ক। শিবাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য বিনায়ক তার মায়ের মোবাইল থেকে পৌলমি নামে একটি মেয়ের নাম করে ভুয়ো এসএমএস করে শিবা কে। বিনায়ক পৌলমি সেজে শিবাকে ম্যাসেজ করে বারাসাতে দেখা করতে বলে। ম্যাসেজে পৌলমির নাম দেখে বারাসাতে দেখা করতে গিয়ে ফিরে আসে শিবা। এরপর শনিবার নিউ ব্যারাকপুরে আবার দেখা করতে বলে। সেখানে গিয়ে দীর্ঘক্ষন অপেক্ষার পর কাল্পনিক পৌলমিকে না পেয়ে ওই নম্বরে ফোন করে শিবা। ফোন করায় বিনায়কের মা ফোন রিসিভ করে। কথা বার্তায় শিবা জানতে পারে বিনায়কই পৌলমি সেজে তাকে এসএমএস করেছিল। এই নিয়ে ২ পরিবারের মধ্যেও ঝামেলা হয়। তখনই শিবা দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল বিনায়ককে”। এই ঘটনার পর ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় খুনের অভিযোগ তুলছে মৃত বিনায়কের বাবা সুশীল চক্রবর্তী। সহপাঠী সূত্রে জানা গিয়েছ্রে, সোমবার মধ্যমগ্রাম থানার উদ্যোগে মধ্যমগ্রাম চৌমাথায় সেভ ড্রাইভ সেভ লাইফ এর একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিলো এই স্কুলের ৩১ জন ছাত্রের। তারা সেখানে না গিয়ে ট্রেনে চেপে হাসনাবাদ গামী ট্রেনে উঠে মালতীপুর স্টেশনে নামে। ওদের সঙ্গে বিনায়ক ও বেড়াতে গিয়েছিলো মালতিপুরে। এরপর এই ঘটনা ঘটে। এখন দেখার বিষয় এটাই যে কত দিনে বিনয়ায়কের মৃত্যুর আসল সত্যি টা বের হয়।

সম্পর্কিত সংবাদ