বর্ষায় দুর্দশার সম্মুখীন বসিরহাট মহকুমা

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

শান্তনু বিশ্বাস, বসিরহাটঃ সপ্তাহের প্রথম দিন সকাল থেকে শুরু হয়ে যায় বৃষ্টি, আর সেই বৃষ্টিতেই নাজেহাল বসিরহাটের সাধারন মানুষ। গোদের ওপর বিষ ফোড়ার মতন বৃষ্টিতে জলে ডুবে যায় বসিরহাটের টাকি রোড থেকে শুরু করে পৌরসভার ওলি গোলি।  একদিকে জমা জল তার উপর বেহাল রাস্তা, দুইয়ের কারনে বিপদের আশঙ্কায় পথচারীরা।

বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির জ্বেরে প্রথম ঘটনাটি ঘটে বসিরহাট মহকুমার ঝিঙ্কা গ্রামে। এদিন এই গ্রামের বাসিন্দা সৈদুল মন্ডল সকালে জব কার্ড প্রকল্পে পুকুর সংস্কারের কাজ করছিলেন গ্রামের মধ্যেই। সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ বৃষ্টির মধ্যেই কাজ চলাকালীন বাজ পড়ে ঘটনা স্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। বাজ পড়ে আগুনের ঝলকানিতে গুরুতর জখম হন আরও পাঁচ শ্রমিক। জখম রাজ্জাক, বাবলু, আরিজুল সহ পাঁচ শ্রমিককে নিয়ে যায় বসিরহাট জেলা হাসপাতালে। সাখানেই চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে তাদের। বাজ পড়ে মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে মৃতের পরিবারে।

এদিকে সব থেকে বিপাকে পড়েছেন বসিরহাট পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। সকালে মাত্র দেড় ঘন্টার বৃষ্টিতেই ড্রেন ছাপিয়ে জল ঢুকে পড়ে গৃহস্থের রান্না ঘর থেকে এক্কেবারে অন্দরমহলে। ফলে চলে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ। প্রতিবাদে এদিন সকাল থেকে বসিরহাট আর এন রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা ও ব্যবসায়ীরা। বৃষ্টিতে ড্রেনের নোংরা জল ঘরে ঢোকায় পৌরসভার পরিকল্পনাহীন বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন এলাকা বাসিরা। স্থানীয় বাসীন্দা মুসা কালিম সরদার বলেন, “ড্রেন সংস্কার না করে কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই রাস্তা অযাথা উঁচু করে দেওয়ায় ড্রেনের নোংরা জলে ভরে যাচ্ছে ঘর। পৌরসভাকে জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি আমাদের।”

অপরদিকে সাধারন মানুষের ভোগান্তির বিষয়ে নিয়ে পৌরসভার পৌরপ্রধান তপন কুমার সরকারের সঙ্গে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমরা কাল থেকে কাজ শুরু করছি, স্থানীয় কিছু বাসিন্দাদের কিছু তৈরি সমস্যার জন্য কাজ করতে পাড়া যায় নি। আমরা খুব তাড়াতাড়ি চেষ্টা করছি সমস্যা সমাধান করতে।” এখন দেখার স্থানীয় এলাকাবাসীরা এই ভরা বর্ষায় এলাকার নর্দমার জল নিকাশির সমস্যা থেকে মুক্তি কবে পায়।

সম্পর্কিত সংবাদ