বিজ্ঞাপনের চটকদারিতে নয়, নিজে যাচাই করুন আপনার সাধের স্মার্ট ফোনটিকে

Spread the love
  • 13
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    13
    Shares

 

ওয়েবডেস্ক, বেঙ্গলটুডেঃ প্রায় রোজই লঞ্চ হচ্ছে একাধিক নতুন স্মার্টফোন। আর তার সবকটিতেই থাকছে নিত্য নতুন ফিচার্স। আর এই সব ফিচার্স তখনই ভালো করে কাজ করবে যখন ফোনের প্রসেসার ভালো হবে। আর সেই কারনেই নতুন ফোন কেনার আগে সবার আগে দেখে নাওয়া প্রয়োজন ফোনের প্রসেসারটি।

বেশ, ধরুন আপনার ফোনে একটি কোয়াড কোর প্রসেসার রয়েছে আর আপনার বন্ধুর ফোনে রয়েছে অক্টাকোর প্রসেসার। এর মানেই কি আপনার বন্ধুর ফোন আপনার ফোনের থেকে ভালো? অথবা একটি অক্টাকোর প্রসেসারের ফোন বাড়িতে নিয়ে এসে ভাবলেন যে আপনার প্রসেসারই সেরা। কিন্তু আপনি কি জানেন? একটি কোয়াড কোর প্রসেসার অনেক সময় একটি অক্টাকোর প্রসেসারের থেকে ভালো কাজ করে? তাহলে নতুন ফোনের প্রসেসারটি ভালো না মন্দ তা বোঝার উপায় কী?

তাহলে আপনাকে যা করতে হবে তা হলো যে কোন প্রসেসার বাছাই করার সময় প্রধাণত চারটি জিনিস মাথায় রাখা প্রয়োজন। তবে শুরুতেই এটা জেনে নেওয়া প্রয়োজন যে এই চারটি জিনিসের যে কোন একটি বা দুটি ভালো হলেই সেই প্রসেসার ভালো হয়ে যাবে না। কোন প্রসেসারকে ভালো হতে গেলে এই চারটি জিনিসের সঠিক সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। এবার তাহলে আসুন এই বিষয়টি একটু বিষদে দেখে নেওয়া যাক।

১. আর্কিটেকচার

কোন স্মার্ট ফোন কেনার আগে প্রথম যে জিনিসটি দেখা প্রয়োজন তা হল প্রসেসারের আর্কিটেকচার। নতুন জমি কিনে বাড়ি করার আগে আপনি যেমন এক ইঞ্জিনিয়ারকে দিয়ে বাড়ির আর্কিটেকচার ডিজাইন করেন, ঠিক তেমনি নতুন প্রসেসার বানানোর আগে এক আর্কিটেকচার দিয়ে তার ডিজাইন করায় মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলি। আর এই আর্কিটেকচার ডিজাইনের কাজ করে ARM নামে এক কোম্পানি। Cortex-A53, Cortex-A57, Cortex-A72 এই ধরনের নামের আলাদা আর্কিটেকচার থাকে আমাদের মোবাইল প্রসেসারে। এবার জেনে নেওয়া যাক কীভাবে বুঝবেন একটি আর্কিটেকচার অন্যটার থেকে ভালো না মন্দ? উপায় খবই সহজ। যে আর্কিটেকচারের শেষে নম্বর যত বড় সেই আর্কিটেকচার তত উন্নত ও ভালো।

২. টেকনোলজি

একটি স্মার্ট ফোনের প্রসেসারের মধ্যে কয়েক লক্ষ্য ছোট ছোট ট্রান্সিসটার থাকে। আর এই ট্রান্সিসটার যত ছোট হবে সেই প্রসেসার ততই ভালো হবে। 14nm, 18nm এই ধরনেই একাধিক নম্বর দেখা যায় প্রসেসারে সাথে। এই নম্বর দিয়ে বোঝা যায় একটি ট্রান্সিসটার কতটা ছোট। আর এই নম্বরটি যত ছোট হবে সেই প্রসেসার ততই ভালো।

৩. কোরের সংখ্যা

পূর্বের ২টো এর শর্তের পরে আসে সেই প্রসেসারে কোর কতগুলি আছে। ডুয়াল কোর অর্থাৎ দুটি কোর, কোয়াড কোর অর্থাৎ চারটি কোর, অক্টা কোর অর্থাৎ আটটি কোর, ডেকা কোর অর্থাৎ দশটি কোর। এবার জানা প্রয়োজন শুধুমাত্র কোর বেশি হলেই সেই প্রসেসার ভালো হয় না। এর জন্য আগের দুটি শর্তও ভালো হতে হবে। যেমন ধরুন একটি অক্টাকোর প্রসেসারে পুরোনো আর্কিটেকচার আর বড় ট্রান্সিসটারের ব্যাবহার হলে সেই প্রসেসারের থেকে একটি কোয়াডকোর লেটেস্ট আর্কিটেকচার ও ছোট টেকলোলজির প্রসেসার অনেক ভালো হবে।

৪. ফ্রিকোয়েন্সি

সর্ব শেষ শর্ত হলো ফ্রিকোয়েন্সি। দেখবেন প্রসেসারের সাথেই 1GHz বা 2.4GHz নম্বর থাকে। এই শব্দের অর্থ কী? সব প্রসেসারের সাথেই একটি ঘড়ি লাগানো থাকে। আর এই স্পিডকে বলা হয় ক্লক স্পিড। যেমন ধরুন একটি 1GHz প্রসেসার এক সেকেন্ডে ১০ কোটি বার কাজ করতে পারে। আর তাই এই স্পিড যত বেশি হবে ততই ভালো হবে সেই প্রসেসার। কিন্তু আবারও এর জন্য আগের তিনটি শর্তও পুরন করতে হবে সেই প্রসেসারকে।

আশাকরি এতক্ষণে আপনারা বেশ ভালই বুজে গেছেন একটি স্মার্ট ফোন কেনার সময় আপনাকে কোন কোন শর্ত দেখে তারপর আপনার পছন্দের স্মার্ট ফোনটি কিনতে হবে। তাহলেই আপনার হাতে আসবে আসল স্মার্ট ফোন। আর আপনিও তা বেশ স্মার্টলি সেটাকে ব্যাবহাত করতে পারবেন।

সম্পর্কিত সংবাদ